শনিবার, জুলাই ২১, ২০১৮, ২:১৮:১২ পূর্বাহ্ণ
Home » ফেইসবুক কর্ণার » খালেদা জিয়ার মুক্তি অনিশ্চিত: ভোটে যাবে বিএনপি!

খালেদা জিয়ার মুক্তি অনিশ্চিত: ভোটে যাবে বিএনপি!

আব্দুল বারী:
দিন যতই যাচ্ছে খালেদা জিয়ার মুক্তির সম্ভাবনা ততই ক্ষিণ হয়ে আসছে। তার গ্রেফতার ও শাস্তি সরকারের জন্য ছিল বিরাট ঝঁকি। কারণ তাদের সমকক্ষ একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান আটক হলে কি পরিস্থিতি হবে, দেশ বিদেশের অদৃশ্য শক্তি কতটা আলোড়ন সৃষ্টি করবে এ নিয়ে শঙ্কার কোন কমতি ছিলনা।
হতে পারে এমন যে এই বিষয়টি মাথাই রেখেই রায় ঘোষণার দিন হয়েছিল বৃহস্পতিবার। যদি অবস্থা বেসামাল হয়ে যায় তাহলে শুক্র শনির সরকারি ছুটি পরিস্থিতি প্রশমনে কাজে লাগানো যাবে। প্রয়োজনে জামিন প্রক্রিয়ার অজুহাতে আরো একটি সপ্তাহ হাতে পাবে সরকার।
বাস্তবে দেখা গেল রায়ের দিন খালেদা জিয়া আদালতে গেলেন অহিংস নীতির রথে চড়ে। শাস্তি ঘোষণার পর কয়েদী হিসেবে তাকে নেওয়া হলো পরিত্যাক্ত কারাগারে। তার শাস্তি নিয়ে যত অশুভ ঘটনা ঘটার শঙ্কা ছিল তার কিছুই ঘটলো না। দেশ বা বিদেশে তেমন কোন আলোড়ন সৃষ্টি হলোনা।
তাই এই খেলার সকল বলের নিয়ন্ত্রণ এখন সরকারের হাতে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আপিল করার মত কোন কিছুই সংগ্রহ করতে পারেনি আইনজীবীরা। উপরন্ত তাকে আরো ৮ টি মামলায় শ্যৈন এ্যারেস্ট দেখানোর প্রস্তাব দিয়েছে পুলিশ। সেগুলি কার্যকর না হলেও যে কোন সময় কাজে লাগানোর মওকাও এখন সরকারের হাতে। এছাড়া আরো মামলার রায় অত্যাসন্ন। এসব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় খালেদার মুক্তি সুদুর পরাহত।
অপরদিকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারনে জাতীয় নির্বাচন অবশ্যাম্ভি। সেই নির্বাচনে মুক্ত বিএনপি বিজয় ছিনিয়ে নিতে পারে এমন ধারণা সরকারী দলের নিদ্রাহরণ করে নিচ্ছে। ক্ষমতা হাত ছাড়া হলে কি হতে পারে তা ভেবে সরকারি দলের কেউই স্বস্থিতে নেই। আবার বিএনপিকে বাদ রেখে নির্বাচন করলে তার গ্রহণযোগ্যতা তাদের কোথায় নিয়ে ফেলতে পারে তাও কারো অজানা নয়। তাই মুক্ত বিএনপিকে তাড়া করে খাঁচায় পুরে নির্বাচনের মাঠে নিয়ে যাওয়ার তৎপরতা ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। ফেয়ার নির্বাচন হলে বন্দি বিএনপিকে মুক্ত করার জনচিন্তা প্রকট হতে পারে সে সম্ভাবনা শঙ্কামুক্ত নয়। তাই বন্দি বিএনপিকে এক খাঁচায় না রেখে বৃটিস পদ্ধতির ” ডিভাইডেড এন্ড রুল ” পলিসির কৌশলও মাঠে ছাড়া হচ্ছে।
জানা গেছে তারেক জিয়ার ভুল বিএনপির বিপর্যয়ের জন্য অনেকের কাছেই চিহ্নিত হয়েছে। তাই তার নীতিকে বাদ দিয়ে নিজস্ব চিন্তায় আন্দোলনের রূপরেখা দিয়ে গেছেন খালেদাজিয়া। সেই রূপরেখা অনুসরণ করেই আগাচ্ছে বিএনপি। খালেদাজিয়া জেলে যাওয়ার আগে স্ট্যাণ্ডিং কমিটি ও নির্বাহী কমিটি নিয়ে দু’টি সভা করে গেছেন। জেলে যাওয়ার পর এই দু’টি কমিটি খালেদার চেয়ার লাল কাপড় দিয়ে ঢেকে আরো দু’টি সভা করেছে। সেই মোতাবেকই কাজ করে যাচ্ছে বিএনপি।অপর একটি সূত্রে জানা গেছে প্রতিবাদ সমাবেশ প্রত্যাশানুযায়ী না হওয়ায় তাদের লন্ডন অফিস ঢাকার প্রতি নাখোশ। আবার সরকারের দু’জন প্রভাবশালীর সাথে দেখা করায় বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় এক নেতাকে কৈফিয়ত দিতে হয়েছে।
এসব বিষয় পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে বিএনপির নির্বাচনমুখী নেতারা খালেদাজিয়া ও তারেক জিয়াকে বাদ দিয়ে হলেও নির্বাচনে যাবে। তাতে দল ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। এই সম্ভাবনাকে রুখে দিতে ও সহানুভূতি ভোট পাওয়ার লক্ষ্যে বিএনপি ভোটে যেতে বাধ্য হতে পারে। এমনটি হলে আওয়ামী লীগকে আরো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। আবার একথা নিশ্চয়ই আওয়ামীলীগ জানে বিএনপি যদি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় তথাপিও এন্টি লিবারেশন ও এন্টি আওয়ামীলীগ সেন্টিমেন্ট কখনোই ভাঙবেনা। যে নামেই হোকনা কেন, তারা আবারো আসবে ফিরে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার নীড়ে। এটা কিভাবে আওয়ামীলীগ মোকাবেলা করবে তা এখন অপেক্ষা করে দেখার বিষয়।

/এল//

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *