সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮, ১২:৫৯:২৮ পূর্বাহ্ণ
Home » সারাদেশ » রংপুর » কেচো কুড়তে সাপ!

কেচো কুড়তে সাপ!

দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি ঃ দিনাজপুরে বহুল আলোচিত কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক ও জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী নাহিদুল ইসলাম নাহিদ হত্যার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ভেটেনারী বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের জন্ম নিবন্ধনে তথ্য গোপনের ঘঁটনা ফাঁস হয়ে পড়েছে। কেচোঁ খুরতে সাপ বেরিয়ে পড়েছে।
মেহেদী হাসান গ্রেফতার হওয়ার পর মেহেদী হাসানের আইনজীবি আদালতে মেহেদীকে শিশু হিসেবে দাবী করে আবেদন করেন। আদালতে মেহেদীর জন্ম নিবন্ধন ও জে,এস,সি – এস,এস,সি পরীক্ষার সনদপত্র দাখিল করা হয়। অপর দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (অপারেশন) আরিফুল ইসলাম আরিফ মেডিকেল পরীক্ষা করে মেহেদীর বয়স নির্ধারনের আবেদন করেন। এই বয়সকে কেন্দ্র করে মেহেদীর জীবন বৃত্তান্ত অনুসন্ধানে নামে পুলিশ । অনুসন্ধান করতে গিয়ে দিনাজপুর পৌরসভায় জন্ম নিবন্ধনে (বই নং-৪২, নিবনন্ধন নং-১৩৪১৭৬, পাতা নং-৭০) দেখা যায় মোঃ মেহেদী হাসান, পিতা মোঃ নুরুজ্জামান,মাতা মোছাঃ জাকিয়া সুলতানা, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা সাং-দঃ পাহাড়পুর, থানা কোতয়ালী, জেলা দিনাজপুর উল্লেখ করা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেহেদী হাসানের পিতার স্থায়ী ঠিকানা দঃ পাহাড়পুর নয়। ১০ নং ওয়ার্ডের পাহাড়পুর মহল্লার মোঃ ইয়াহিয়ার (গনপূর্ত বিভাগের সাবেক প্রকৌশলী) বাড়ীতে পিতা-মাতাসহ ভাড়া থাকেন। মেহেদী হাসানের পিতার প্রকৃত স্থায়ী ঠিকানা পার্বতীপুর উপজেলার কালিবাড়ী ইসলামপুর গ্রামে। মেহেদীর জন্ম নিবন্ধনে স্থায়ী ঠিকানা গোপন করা হয়েছে। এদিকে ১০নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর সিদরাতুল ইসলাম বাবু জানান, দঃ পাহাড়পুর বলে কোন মহল্লা এই ওয়ার্ডে নেই। দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জানান, জন্ম নিবন্ধনে স্থায়ী ঠিকানা গুরুত্বপূর্ন। যে কোন ব্যাক্তি বা পরিবারকে খুজে বের করতে স্থায়ী ঠিকানা অপরিহার্য। ওয়ার্ড কাউন্সিলারের অনুমোতিক্রমেই জন্ম নিবন্ধন করা হয়। দিনাজপুর কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ রেদওয়ানুর রহিম জানান, যে কোন অনুসন্ধানে স্থায়ী ঠিকানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইন স্থায়ী ঠিকানার উপরই নির্ভর করে। তবে অপরাধীরা আইনের হাত থেকে ধরাছোয়ার বাইরে থাকার জন্যই স্থায়ী ঠিকানা গোপন করে থাকেন। মেহেদী হাসানের এবিষয়টি পুলিশ আমলে নিয়েছে তদন্ত চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *