রবিবার, অক্টোবর ২১, ২০১৮, ৩:২০:৫৬ অপরাহ্ণ
Home » সারাদেশ » রংপুর » কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল না দেয়ার দ্বন্দে সংঘর্ষ, গুলি গুলিবিদ্ধ- ২, ডিলার গ্রেফতার, সার্টারগান উদ্ধার

কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল না দেয়ার দ্বন্দে সংঘর্ষ, গুলি গুলিবিদ্ধ- ২, ডিলার গ্রেফতার, সার্টারগান উদ্ধার

শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম ঃ
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের সাজাই বাজারে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি’র উপকারভোগীদের বরাদ্দের চাল না দেয়ার দ্বন্দে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যবহৃদ সার্টারগান ও এক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাজিবপুর ও রৌমারী থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোর ৬ টার দিকে কোদালকাটি ইউনিয়নের সাজাই গ্রামের দুলালের বাড়ি থেকে দেশীয় তৈরি সার্টারগান ও ১ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে। এঘটনায় সার্টারগানে গুলি ছোড়া চাল ডিলার ও ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা তোতা মিয়াকে বৃহস্পতিবার আটক করে রাজিবপুর থানা পুলিশ।
এদিকে শুক্রবার দুপুরে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সংঘর্ষের ঘটনার বিফ্রিং করেন পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম। এসময় তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার কোদালকাটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান এবং ডিলারের মধ্যে চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে অনাকাংখিত ঘটনা ঘটে। ফলে সেখানে একটি সংঘষের ঘটনা ঘটে এবং সেই সংঘর্ষে চাল ডিলার একটি দেশীয় তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করে এবং গুলি করে। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ২জন আহত হয়। ঘটনার সাথে সাথেই আমরা আসামী তোতা মিয়াকে ধরতে সক্ষম হই। এ ঘটনায় ৭ জনকে আসামী করে একটি মামলা রুজু হয়। তারপর আমরা সারারাত ব্যাপী অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হই। মামলার মুল আসামী চাল ডিলার তোতা মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় পুলিশ সুত্র জানায়, খাদ্য বান্ধব বর্মসূচীর ১০ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণের দ্বন্দ নিয়ে রাজিবপুর উপজেলার কোদাল কাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর ছক্কু ও তোতা মিয়া গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উক্ত ইউনিয়নের তোতা মিয়া ১০টাকা চাল বিক্রেতার ১ জন ডিলার। বুধবার কোদালকাটি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের কয়েকজন গ্রাহককে চাল না দিয়ে তাদের নিকট থেকে টিপসহি ও কার্ড নিয়ে নেয় বলে তালেব ও রোকন নামের ২ জন গ্রাহক ওয়ার্ড মেম্বর কামাল উদ্দিনকে অভিযোগ করেন। কামাল উদ্দিন বিষয়টি তোতা মিয়ার নিকট জানতে চায়। এ নিয়ে ওই দিন মেম্বরকেও শাসিয়ে দেয় তোতা মিয়া। পরে চেয়ারম্যান বিষয়টি নিয়ে কথা বললে তাকেও অপমান করে। ফলে ইউপি মেম্বর কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে তোতা মিয়াকে আসামী করে রাজিবপুর থানায় একটি জিডি দায়ের করে।
পরে এই ঘটনার জেরে চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর ছক্কুর আতœীয়স্বজন ও এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার ১১টার দিকে কোদালকাটি বাজারে বিক্ষোভ করে এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক শফিউল আলমকে বিষয়টি অবগত করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান ব্যাপারটি দেখবেন বলে ২ পক্ষকে শান্ত থাকতে বলেন। ইউপি চেয়ারম্যান ছক্কু গ্রুপ চুপচাপ থাকলেও তোতা মিয়া গ্রুপ কোদালকাটি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দুপুর ১২টার দিকে চেয়ারম্যানকে লাঞ্চিত করে।
এদিকে চেয়ারম্যানের আতœীয়-স্বজন খবর পেয়ে তোতা গ্রুপকে আক্রমন করে। তোতা গ্রুপ পালিয়ে তার ভগ্নিপতি আব্দুল্লাহর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। বেলা পনে ২টার দিকে হুমায়ুন গ্রুপও পিছে পিছে উক্ত বাড়িতে ঢুকার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তোতা মিয়া ও তার ভাই দুলু পাইপ গান দিয়ে ৪ রাউন্ড গুলি ছুড়লে চেয়ারম্যানের নাতী বিপ্লব হোসেন(২৪) ও ভাতিজা মন্ডল (২৮) গুরুতর আহত হয়।
পরে গুলিবিদ্ধ আহতদের উদ্ধার করে রাজিবপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দেলোয়ার হোসেন তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার্ড করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *