সোমবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৮, ১২:৪৪:২৮ পূর্বাহ্ণ
Home » অপরাধ » কুষ্টিয়া খোকসার প্রসূতি মৃত্যুর তালিকা, শেফা ক্লিনিকে তৃতীয় দফায় তালা

কুষ্টিয়া খোকসার প্রসূতি মৃত্যুর তালিকা, শেফা ক্লিনিকে তৃতীয় দফায় তালা

কুষ্টিয়া থেকে রিয়াজুল ইসলাম সেতু :
কুষ্টিয়ার খোকসার অনুমোদন হীন ক্লিনিকগুলোতে ভুল অপারেশনে রোগীর মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা ও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হলেও নিজেরাই সেই তালা খুলে দেদারেচ্ছ ব্যবসা করছে অভিযুক্ত প্রতিষ্টানগুলো। কয়েকদিন আগে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগে শেফা ক্লিনিকে তৃতীয় দফায় তালা ঝুলিয়ে দেই উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। দফায় দফায় অভিযান, জরিমানা ও তালা বন্ধের পরেও ক্লিনিক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমছে না। উপজেলা সদরের খোকসা আধুনিক প্রাইভেট হাসপাতাল, শেফা ক্লিনিক, বিশ্বাস হাসপাতাল, খোকসা হেলথ কেয়ার হাসপাতাল এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আইডিয়াল হাসপাতালসহ প্রায় ডজনখানেক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে দুই দফায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনাকালে উপজেলার একটি প্রতিষ্ঠানও বৈধ লাইসেন্স দেখাতে পারেনি। প্রথম দিনে শেফা ক্লিনিক ও জেসি ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ ৩টি প্রতিষ্ঠানে জরিমানাসহ তালা ঝুলিয়ে দেন ভ্রাম্যমান আদালত। এদের মধ্যে মজিদ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক জরিমানার ৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে আবার ব্যবসা শুরু করেছেন। দ্বিতীয় দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে দুই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রত্যেক মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত। ইতিমধ্যে শেফা ক্লিনিকের মালিক পক্ষ ভ্রাম্যমাণ আদালতের ঝুলিয়ে দেওয়া তালা ভেঙে ব্যবসা রীতিমত ব্যবসা করছে। অবশেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার একটি দল শেফা ক্লিনিকে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে ক্লিনিকটিতে আবার তালা ঝুলিয়ে দেয়। সর্বশেষ গতকাল শনিবার বিকালে তৃতীয় দফায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করছে, গত এক মাসে ভুল অপারেশনে খোকসা আধুনিক প্রাইভেট হাসপাতাল, শেফা ক্লিনিকে প্রসূতি, নবজাতক, বৃদ্ধাসহ কমপক্ষে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের চাপের মুখে নিহতদের পরিবার মামলা করতে সাহস পাননি। এর মধ্যে শুধু খোকসা আধুনিক প্রাইভেট হাসপাতালে ভুল অপারেশনে মারা যান খাদিজা (২৫), কলিমহর গ্রামের সাবিনা (২৩), বরইচারা গ্রামের কুতুব আলীর নবজাতক পুত্রসহ বেশ কয়েকজন। উপজেলার পাথালদৌড় গ্রামের হতদরিদ্র রহিমন নেছা (৬০) একই ক্লিনিক থেকে জরায়ু অপারেশন করানোর পর পঙ্গুত্ব বরন করেছেন। শেফা ক্লিনিকে জরায়ু অপারেশনের পর মারা যান ৫৫ বছর বয়সী আদিবাসী নারী চিন্তা রানী। গত ৫ বছরের এসব ক্লিনেকে সিজার ও অন্যান্য অপারেশন করাতে গিয়ে কমপক্ষে ১০ প্রসূতি ও ৩ শিশুসহ বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। শেফা ক্লিনিকের মালিক ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারী আরেনা খাতুন ভরসা দাবি করেন, তার ক্লিনিকে ৫৫ বছর বয়সী একজন আদিবাসী মহিলার মৃত্যু হয়েছে। তবে খোকসা আধুনিক হাসপাতালে এক মাসে ৩ জন মারা গেছেন। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. রওশন আরা বেগম মোবাইল ফোনে রোগী মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অনিয়ম ও রোগী মৃত্যুর তদন্তে গিয়ে শেফা ক্লিনিকে দ্বিতীয় দফায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল শনিবার বিকালে তৃতীয় দফায় তালা ঝুলিয়ে দেয় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান সোহেল। তিনি জানান অভিযুক্ত প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *