মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৪, ২০১৮, ২:২১:২১ অপরাহ্ণ
Home » সারাদেশ » খুলনা » কুষ্টিয়ায় রাতের আধাঁরে ৫১টি সরকারী মেহগনি গাছ কেটে নিয়েছে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা ॥ ২১টি গাছ উদ্ধার

কুষ্টিয়ায় রাতের আধাঁরে ৫১টি সরকারী মেহগনি গাছ কেটে নিয়েছে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা ॥ ২১টি গাছ উদ্ধার

জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সড়কের পাশে লাগানো সরকারী ৫১টি মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রাতের আধাঁরে কেটে নিয়েছে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা। খবর পেয়ে শুক্রবার দৌলতপুর থানা পুলিশ ও দৌলতপুর ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ২১টি গাছ জব্দ করলেও বাঁকী গাছ উদ্ধার ও গাছ কাটার সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি। উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের কায়ামারী সড়কের পাশে লাগানো সরকারী মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির এ গাছগুলি কাটা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৫ লক্ষাধিক টাকা হবে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কায়ামারী গ্রামের স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা বজলুর রহমানের নেতৃত্বে আশরাফ আলী, সিরাজুল ইসলাম, ফজুলল হক, রিয়াজুল হক, জনি, রনি ও সুমনসহ ১০-১২জন আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী গভীর রাতে কায়ামারী সড়কের পাশে লাগানো সরকারী ৫১টি মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ করাত দিয়ে কেটে ভ্যান যোগে পাচার করতে থাকে। শুক্রবার এলাকাবাসী গাছ কাটা ও পাচারের দৃশ্য দেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ও দৌলতপুর ভূমি অফিসের তহসিলদার আনিসুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে গাছ কর্তনকারী পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা ২১টি মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ জব্দ করলেও বাঁকী কাটা গাছ জব্দ বা উদ্ধার করতে পারেনি এবং গাছ কাটার সাথে জড়িত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত দৌলতপুর থানার এসআই রাজ্জাক জানান, ৮টি মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির ২১টি গাছ জব্দ করা হয়েছে। এদিকে স্থানীয় কৃষক সেকেন্দার আলী অভিযোগ করে বলেন, রাস্তার গাছের পাশাপাশি তার নিজের জমিতে লাগানো প্রায় ২৭-৩০ বছর বয়সি ৮টি মেহগনি, ৬টি নারকেল, ২টি খেজুর ও একটি তাল গাছ কেটে নিয়েছে ওই প্রভাবশালীরা। অপরদিকে, স্থানীয় এক যুবকের মোবাইলে ধারন করা ভিডিও ফুটেজে গাছ কাটার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের চেনা গেলেও কাউকে এখনও পর্যন্ত আটক করা হয়নি। তবে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর রহমান এ গাছ কাটার কথা অস্বীকার করেছেন। এবিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি শাহ দারা খান জানান, কাটা গাছগুলি জব্দ করে স্থানীয় তহসিলদার ও চৌকিদারের জিম্মায় রাখা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।
সরকারী গাছ কাটার বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, রাতে আধাঁরে কেটে ফেলা গাছগুলি জব্দ করে তহসিলদারের জিম্মায় রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *