বুধবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৮, ১:৩০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Home » অন্যান্য » কুষ্টিয়ার মাদক সেবনকারীরা এখন ঔষধের দোকানে

কুষ্টিয়ার মাদক সেবনকারীরা এখন ঔষধের দোকানে

ভেড়ামারা প্রতিনিধি # কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় লাইন্সেস ও লাইসেনন্স বিহীন অর্ধশতাধিক ঔষদের দোকানে প্রকাশে pentadol I tapenta 50ml বিক্রয় করছে। ফেনসিডিল-ইয়াবা-হিরোইনের নেশা খোররা pentadol I tapenta 50ml কিনতে ঔষধ দোকান গুলোতে ভীড় করছে। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যামে অভিযান চালানোর জন্য কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন এলাকাবাসী।
লাল বড়ি ৪০ টাকা,সাদা বড়ি ৩০ টাকা। ঔষদের দোকানদার আমাকে প্রথমদিকে বলেছিল প্রতিদিন এই দুইটা বড়ি দুইটা করে খাও আর ফেনসিডিল-ইয়াবা-হিরোইন খাওয়া লাগবে না। আমি প্রথম একমাসে প্রতিদিন ২-৪ করে খেয়েছি,এখন আর ১০টাতেও আর কাজ হয়না। আমার মাথায়ও আর ঠিকঠাক কাজ করেনা। ভাই, আমি মনে হয় পাগল হয়ে যাব…… এমনই সব কথা বলছিলেন গত তিন বছর ধরে ইয়াবা-হিরোইন সেবনকারী আসলাম। ফার্মেসী প্রেসক্রিপশন দেখে ঔষুধ দেয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আসলাম জানায়, ব্যবসা ভাই, ব্যবসা। ঔষদের দোকান গুলোতে শত শত আমাদের মত প্রেসক্রিপশন বিহিন কাষ্টমারের কাছে ১০ টাকার জিনিশ ৩০ টাকায়, ২০ টাকার জিনিশ ৪০ টাকায় বিক্রয় করে। ফার্মেসী থেকে pentadol I tapenta 50ml নামের ২০ টি ঔষুধ কিনতে দেখা যায় রুবেল নামের আরেকজন ইয়াবা মাদক সেবনকারীকে। ঔষুধ দুইটি সম্পর্কে রুবেল জানায়, প্রথমদিকে ওরা আমার কাছ থেকে ঔষুধ দুইটির দাম নিতো ৫০ টাকা করে।এখন প্রতিদিন অনেকগুলো করে ক্রয় করিতো তাই আমার কাছে দাম কম নেয়। প্রতিদিন কয়টা ঔষুধ কেনা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে রুবেল জানায়,আমি অটোভ্যান চালাইতো তাই আমার গ্রামের অন্তত ২০ জনেরও বেশী আমার কাছে ঔষুধ দুইটি কিনতে দেয়। আমি প্রতিদিন ২০০টির বেশি ঔষুধ ক্রয় করি। মানবদেহে ঔষুধ দুইটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়িয়া সূর্যের হাসি কমিউনিটি ক্লিনিকের ডাক্তার এনামুল হক জানান, pentadol I tapenta 50ml এবং pentadol I tapenta 50ml ঔষুধ দুইটি মূলত pentadol I tapenta 50ml প্রুপের ঔষুধ যার বাজার মূল্যে ১২টাকা এবং ২২ টাকা করে।তিনি আরও বলেন,আমরা ঔষুধ দুইটি কোন রুগি গুরুতর জখম হলে দিনে দুইটা করে সর্বোচ্চ সাত দিন দিয়ে থাকি।কোন ব্যাক্তি যদি এই পরিমান ঔষুধ অনেক দিন ধরে ব্যবহার করে তার কিডনি,লিভারসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ন অঙ্গ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমনকি ব্রেন ষ্টক হওয়ার সম্ভবনা থাকে বহুগুনে। রিপন হোসেন জানান, আমাদের বাজার গলিতে আগের থেকে মাদক সেবনকারীদের সংখ্যা বেরেছে বহু গুনে। আমি ভেড়ামারা বণিক সমিতির কাছেও আমার মৌখিক অভিযোগ দিয়েছি।এই সম্পর্কে ভেড়ামারা বণিক সমিতির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বাবুল আক্তার বলেন,আমি সনোর সামনের দোকান দুইটির বিরুদ্ধে উক্ত অভিযোগ পেয়েছি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আমি নিজেই এর সত্যতাও প্রমান করেছি। সকল ব্যবসায়ীকেই সৎ ভাবে তার ব্যবসা করা উচিত।এই সম্পর্কে উপজেলা হেল্থ্ এন্ড ফ্যামেলি প্লানিং অফিসার (টঐঋচঙ) রকিউর রহমান জানান, প্রেসক্রিপশন বিহিন ঔষুধ বিক্রয় করা অবশ্যই আইনবিরোধী। আমরা উক্ত বিষয়টি হাতে-নাতে না ধরতে পারায় কোন ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারিনি। তবে সকলের সহযোগীতা পেলে আমি উপজেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে অসাধু ফার্মেসী গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। ভেড়ামারা ধরমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাবুল আলম লালু, বলেন, ধরমপুর ইউনিয়নের প্রায় ঔষদের দোকান গুলোতে ঢ়বহঃধফড়ষ ও ঃধঢ়বহঃধ ৫০সষ প্রকাশে বিক্রয় হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহাী অফিসার সোহের মারুফ বলেন, শীঘ্রই ঔষদের দোকান গুলোতে অভিযান চালানো হবে। প্রমান পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *