বুধবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৮, ১:২৬:১২ অপরাহ্ণ
Home » অপরাধ » কলেজছাত্রকে গলা কেটে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা

কলেজছাত্রকে গলা কেটে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা

অনলাইস ডেস্ক :
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে নাইম হোসেন (২০) নামে এক কলেজছাত্রকে গলা কেটে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে সারিয়াকান্দি বাজারের দক্ষিণপূর্ব পাশে দু’টি বাড়ির মাঝের খোলা স্থান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতা এবং দুই সহপাঠীসহ ৫ জনকে আটক করেছে।

নিহত নাইম হোসেন জেলার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের মরিয়া গ্রামের ইনতেজার সোনারের ছেলে। সে বগুড়া শহরে অবস্থিত বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (বিট) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিল। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের কোন ক্লু এখনও উদ্ধার করতে পারেনি।

এ ঘটনায় আটকরা হলো- ছাত্রলীগগের সারিয়াকান্দি পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনন্ত শ্রাবণ বিশু, বাবু মিয়া, আতিকুর রহমান, মনির হোসেন ও সাব্বির হোসেন। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের সারিয়াকান্দি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কুমার পাল বলেন, ধারণা করা হচ্ছে সহপাঠী ও বন্ধুদের সঙ্গে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় অন্য জায়গায় হত্যার পর ঘটনাস্থলে (যেখান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে) লাশ ফেলে রাখা হয়। শুক্রবার সকালে মা নাজমা বেগম সারিয়াকান্দি থানায় গিয়ে ছেলের লাশ সনাক্ত করেন।

নাজমা বেগম জানান, বৃস্পতিবার সকালে বাড়িতে নাস্তা করার সময় নাইমের এক বন্ধু মোবাইল ফোনে কল করে। ওই কল পেয়ে নাইম নাস্তা শেষ না করেই মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়ে যায়। রাতে বাড়ি না ফেরায় তিনি নাইমের মোবাইলে কল করেন। কিন্তু কল হলেও কেউ তা রিসিভ করেনি। এক সময় নাইমের মোবাইল ফোন থেকে একটি মেসেজ পাঠানো হয়। তাতে লেখা ছিল ‘সকালে বাড়ি যাব।’ এর কিছুক্ষণ পর ‘তোর ছেলেকে যদি পেতে চাস তাহলে সোনামুখি আয়’ বলে আরও একটি মেসেজ পাঠানো হয়। এরপর থেকে নাইমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, আমি তখন নাইমের তিন বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা আমাকে জানায় নাইম সারিযাকান্দিতে আছে। সকালে বাড়ি ফিরবে।

থানায় ছেলের লাশ শনাক্তের পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন নাইমের তিন বন্ধুই তাকে হত্যা করেছে।

সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কুমার পাল জানান, সকালে সারিয়াকান্দি বাজারের দক্ষিণপূর্ব পাশে দু’টি বাড়ির মাঝখানে একটি পোড়া লাশ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, গলা কাটা লাশের মুখমণ্ডল পুড়িয়ে ফেলার জন্য চটের বস্তা ও পলিথিন দিয়ে আগুন দেওয়া হয়। এতে লাশের মুখ এবং বুকের অংশ পুড়ে যায়। আগুন শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। তার ধারনা অন্য কোথাও হত্যার পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে লাশটি ওই স্থানে ফেলে রাখা হয়েছে।

সারিয়াকান্দি থানার ওসি আল আমিন জানান, লাশটি উদ্ধার করে থানায় আনার পর নাজমা বেগম নামে এক মহিলা সেটি তার ছেলে নাইমের লাশ বলে শনাক্ত করেন।

তিনি বলেন, লাশের মুখমণ্ডল পুড়ে গেলেও পিঠের দিকে অক্ষত ছিল। পরনের গেঞ্জি এবং প্যান্ট দেখে তিনি তার ছেলেকে চিনতে পারেন। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মনির হোসেন ও সাব্বির হোসেন নামে দু’জন নাইমের সহপাঠী। অন্যরা বন্ধু। তবে এখনও (সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা) কোন মামলা হয়নি।

আটকদের কাছ থেকে কোন তথ্য পাওয়া গেছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তারা অসংলগ্ন কথা বলছে। আমরা তাদের তথ্যগুলো খতিয়ে দেখছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *