শুক্রবার, জুলাই ২০, ২০১৮, ১০:৪০:২৩ অপরাহ্ণ
Home » অন্যান্য » একজন পুলিশ কর্মকর্তার মহানুভবতা॥মির্জাপুরে কুড়িয়ে পাওয়া শিশু নুর নবীর ঠাই হলো ওসি মিজানের বাসায়

একজন পুলিশ কর্মকর্তার মহানুভবতা॥মির্জাপুরে কুড়িয়ে পাওয়া শিশু নুর নবীর ঠাই হলো ওসি মিজানের বাসায়

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
কুড়িয়ে পাওয়া অনাথ শিশু নুর নবীর ঠাই হয়েছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসির) বাসায়।ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একে এম মিজানুল হক মিজান ও তার স্ত্রী শিশুকে মা-বাবার মত পরম মমতা দিয়ে লালন পালন করে যাচ্ছেন।তিনি ও তার স্ত্রী এক মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন।এই দম্পতি জানিয়েছেন, মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।নুর নবীর কেউ না থাকলেও এখন থেকে আমরাই ওর মা বাবা।আমরা ওকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলবো।পুলিশ যে জনগনের সেবক মির্জাপুর থানার ওসি মিজান এটাই তার প্রমান করলেন।গত এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ওয়ার্শি ইউনিয়নের কাওলজানি গ্রামের রায়বাড়ির সামনে জঙ্গলের ভিতরে পলিথিন ও বস্তার মধ্যে এই শশুকে পাওয়া যায়।এখন পর্যন্ত ওর কে পিতা মাতা তার কোন সন্তান পাওয়া যায়নি।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজানের নির্দেশে ও পুলিশের এসআই মো. জোনাব আলীর সার্বিক সহযোগিতায় কুমুদিনী হাসপাতালে তাকে ভর্তির পর নাম রাখা হয় নুর নবী।আইনী জটিলতার কারনে তার আশ্রয়স্থল ছিল কুমুদিনী হাসপাতাল।পলিথিন ও বস্তার মধ্যে কুড়িয়ে পাওয়া এক দিনের এই শিশু পুত্রকে(দত্তক নিতে) লালন পালনের জন্য বিভিন্ন এলাকার ৪০ জন দম্পত্তি পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন জানায়।আইনী জটিলতার কারনে কুমুদিনী হাসপাতালে পুলিশ শিশুকে আইসিইউতে নিভির পর্যবেক্ষনে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
মির্জাপুর থানা পুলিশ সুত্র জানায়, মির্জাপুর বিশ^বিদ্যালয় কলেজের প্রভাষক মো. সাইফুল ইসলাম ও হুমায়ুন কবীর নামে দুই ব্যক্তি গত এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে হাটতে গিয়ে জঙ্গলের ভিতরে শিশুর কান্না এবং পাশে একটি কুকুর দেখতে পান।ভাগ্যক্রমে শিশুটিকে কুকুরে খেয়ে ফেলেনি।তারা জঙ্গলে এগিয়ে গিয়ে পলিথিন ও বস্তায় মোড়ানো নবজাতক এক দিনের শিশুকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন।ঘটনা জানাজানি হলে শিশুকে এক নজর দেখার জন্য শতশত লোকজন ভিড় জমায়।অনেকেই শিশুকে লালন পালন করার জন্য তাদের কাছে দাবী জানায়।কিন্ত আইনী জটিলতার কারনে তারা বিষয়টি মির্জাপুর থানা পুলিশকে জানায়।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুকে উদ্ধার করে মির্জাপুর থানায় নিয়ে আসেন এবং পরে কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।প্রায় এক মাস শিশুটি কুমুদিনী হাসপাতালের তিন তলায় শিশু বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিল।
এদিকে অমানবিক ঘটনাটি মির্জাপুরের বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পরলে নিঃসন্তান দম্পত্তি, বিভিন্ন উচ্চ ও মধ্যবৃত্ত পরিবারের লোকজন এসে শিশুকে লালন পালনের(দত্তকনিতে) দায়িত্ব নিতে রাজি হন।মির্জাপুর থানায় অন্ততপক্ষে ৪০-৪৫ জন দম্পত্তি শিশুকে নেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে এসেছেন।আইনী জটিলতার কারনে পুলিশ কাউকে শিশুর লালন পালনের দায়িত্ব দিতে রাজি হচ্ছেন না।মির্জাপুর থানায় শিশুকে নেওয়ার জন্য যারা এসেছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সোহরাব হোসেন, আবু হানিফ, ময়নাল হক, জয়নব বেগম, রুবি বেগম ও শুকুর আলীসহ ৪০-৪৫ জন।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন, শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যাবস্থা করা হয়। শিশুকে লালন পালনের জন্য অনেকেই এগিয়ে আসায় আইনী জটিলতার কারনে কাউকে দেওয়া যাচ্ছে না। শিশুকে কার জিম্মায় দেওয়া হবে এমন সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য টাঙ্গাইল জেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে পুলিশ আবেদন করা হয়েছিল।ম্যাজিস্ট্রেট শিশুর শারীরিক দিক বিবেচনা করে কুমুদিনী হাসপাতালের শিশু বিভাগের আইসিইউতে রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন।শিশুটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এখন থেকে আমার স্ত্রী ও আমি তাকে লালন পালন করে যাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *