রবিবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮, ১০:৩২:৫৪ অপরাহ্ণ
Home » অন্যান্য » ঋণের আওতায় আসছে টার্কি খামারিরা

ঋণের আওতায় আসছে টার্কি খামারিরা

কুষ্টিয়া থেকে রিয়াজুল ইসলাম সেতু :
দেশে টার্কি চাষ করে লাখোপতি হাওয়া কিংবা অল্প পুঁজিতে অমুক এলাকায় অমুক যুবক টার্কি মুরগী/ মোরগ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন, এমন খবর বেশ পুরনো। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া প্রকাশিত এসব খবরের বেকার যুবকদের অনেকেই ঝুঁকছেন টার্কি চষে। তবে নতুন খবর হলো ২০১৮ – ২০১৯ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচিতে ‘টার্কি পাখি পালন’ অন্তভুক্ত করতে যাচ্ছে সরকার। আর একটি হলে কৃষি চাষে কৃষি ঋণের মতো বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ পাবেন চাষিরা। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রাণালয়ের সচিব কে লেখা বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে, ২০১৮ – ২০১৯ অর্থ বছরে বার্ষিক কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচিতে ‘টার্কি পাখি পালন’ অন্তভুক্তির নিমিত্তে তার্কি পাখি পালনের বাজার সম্ভবনা/বাজার যাচাই পূর্বে সর্বোচ্চো এক হাজার টার্কি পাখি পালনের জন্য সম্ভাব্য খরচ এবং ঋণ গ্রাহিতার জন্য সর্বোচ্চো ঋনেণর পরিমাণ নির্ধারণ করে অত্র বিভাগে সরবাহের জন্য অনুরোধ করা হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক বলেন ,‘কৃষি খাতের আওতা বৃদ্ধির এবং কৃষিকাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য প্রতিটি বার্ষিক ঋণ ও পল্লি ঋণ নীতিমালা এবং কৃষি কর্মসূচিতে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ কাতে ইতিবাচক ভুমিকা রাখতে সক্ষম বিভিন্ন বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে।এক্ষেত্রে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বার্ষিক ঋণ ও পল্লি ঋণ নীতিমালা কর্ম সূচিতে টার্কি পাখি পালন অন্তভুক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্রিয় বিবেচনা রয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করেন , মানব স্বাস্থ্য জন্য টার্কি মাংস অত্যন্ত্য উপযোগি । টার্কি মাংসে অধিক পরিমাণ জিঙ্ক, লৌহ, পটাশিয়াম, ভিটামিন ডি, ই এবং ফসফরাস থাকে । এ উপাদান গুলো মানব শরীলের জন্য ভীষণ উপকারী । টার্কি তৃণভোজী পাখি হাওয়ায় এর মাংস অত্যন্ত্য সুস্বাদু। দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে টার্কি চাষ উৎপাদন ব্যয় কম এবং অল্প বিনিয়োগ সল্প সময়ে অধিক মুনাফার কারণে ইতি মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে টার্কি পালন। শুধু গ্রামগঞ্জেই নয়, রাজধানির আসে পাশেও টার্কি পাখি লালন পালন করা হয়। যাদের অথিকাংশই যুবক। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা স্বল্প পুঁজি বিনিয়গ করে বাড়িতে টার্কি কামার সাবলম্বী হচ্ছে। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ বেকারত্ব দূর হাওয়ার পাশাপাশি দৈনোন্দিন তালিকায় যুক্ত হচ্ছে স্বাস্থসম্মত সুস্বাদু টার্কির মাংস।
কোথা থেকে এলো টার্কি :- উইকিপিডিয়াসহ অন্যন মাধ্যম গুলো বলছে, টার্কি এক সময় বন্য পাখি ছিল। কিন্তু বর্তমানে সারাবিশ্বে টার্কি গৃহ লালন পালন হচ্ছে। গবেষোণা থেকে জানা যায়, বাড়িতে প্রথম টার্কি পালন শুরু হয় উত্তর আমেরিকায়।পরে ১৫৫০ সালে উইলিয়াম স্টিকলেন্ট নামে এক ইংরেজ নাবিক প্রথম তুরস্ক থেকে এ মুরগী ইউরোপে নিয়ে আসেন। ফলে তুরস্কের নাম অনুসারে পাখিটির নাম করণ হয় টার্কি। সল্প সময়ে অধিক লাভ জনক হাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই টাকির্র লালন পালন। গণ মাধ্যমে বলা হচ্ছে- গ্রামঞ্চলে ক্ষুদ্য উদ্যোক্তারা টার্কি খামার করে কর্মস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পুঁজির দ্বিগুণ তিনগুণ লাভ হচ্ছে।
টার্কি সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য :- টার্কি মোরগ/মুরগী মাত্র ৬ মাসে ডিম দেওয়া শুরু করে। এক বছরে একটি টার্কি ওজন ১০-১২ কেজি।পুরুষ টার্কি ওজন ১২-১৪ কেজি হয়। এই হিসাবে একটি ছাগল থেকে যে পরিমাণ মাংস পাওয়া যায় তার থেকে বেশি মাংস পাওয়া যায় একটি টার্কি থেকে। টার্কি লালন পালনে এক বছরে পুঁজির দুই তিনগুণ মুনাফা করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।ঢাকা, সাভার, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, নওগাঁ, খুলনা চট্টগ্রাম, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা,ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ, ফেনীসহ বিভিন্ন জেলায় ছোট- বড় খামার গড়ে উঠেছে। জনা যায়, একটি টার্কি তাদের জীবনকালে ৪ বছর পর্যন্ত ডিম দেয়। ৬ মাস থেকে ডিম দেওয়া শুরু করে একটি টার্কি টানা তিন মাস ডিম দেয়। তিন মাস পর একদিন পরপর ডিম দেয় বিশেষ জাতের এই পাখি। বছরে ডিম পাওয়া যায় ২০০ টি। চার বছরে দেয় ৮০০ টি। বর্তমানে টার্কির একটি ডিমের দাম ২০০ টাকা। ডিম থেকে বেড় হাওয়ার পরই টার্কির বাচ্চার দাম ৭০০ – ৮০০ টাকায়। ২ সপ্তাহে বাচ্চার দাম ৯০০ – ১০০০ টাকা । ২ মাসে প্রতিটি তার্কি বিক্রি করা যায় ১৫শ থেকে ১৬শ টাকায়। তিন মাস বয়সি টার্কি বিক্রি করা যায় সাড়ে তিন হাজার টাকায়। ডিম দেওয়ার সময় প্রতিটি টার্কি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, টার্কি জন্য কৃত্রিম খাবার প্রয়োজন পড়ে না। এ কারণে টার্কি খাবারের ব্যয় খুব কম। সাধারণত প্রকিৃতিক সবুজ ঘাস ও লতা – পাতা এবং সাক-সবজি টার্কি পছন্দের খাবার। পাশাপাশি দানাদার খাদ্য রাখতে হয়। সুবিধা হলো দেশি মুরগীর মতো টার্কি ঘরে পালন করা যায়। যে কেউ ঘরে এক জোড়া টার্কি কিনে পালন করতে পারেন। দেশি মুরগীল শাধ্যমে টার্কি ডিম ফোটানো যায়। পোল্টি মুরগীর জন্য যেভাবে কৃত্রিমখাবার প্রয়োজন হয়টার্কি পালনে তার প্রয়োজন পড়ে না। তাই টার্কি পালনে ব্যয় কম হাওয়া লাভ হয় বেশি। গ্রাম পর্যয়ে টার্কি চাষ দিতে বিশেষ উদ্যোগ্য নিয়েছেন পল্লি কর্ম-সহায়ক ফাউনডেসশন (পিকেএসএফ)। পিকেএসএফের সহয়তায় চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, খুলনা, যশোর, জয়পুরহাটসহ মোট ১৭ জেলায় টার্কি উৎপাদন ও সম্প্রচারণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পিকেএসএফের চেয়ারমেন বলেন, টার্কি পালনে সল্প ব্যয়, র্সপ পরিশ্রম ও সল্প সময়ে অধিক আয় নিশ্চিত করা যায়। টার্কি মাংস স্বাথ্যকর ও সুস্বাদু। ফলে বাজারে এর চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। টার্কি পালনের মাধ্যমে নতুন করে কর্মস্থান সৃষ্টি ও দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণে আবদান রাখার মাধ্যমে দরিদ্র বিমোচনে বড় ভুমিকা রাখতে পাড়ে বলে মনে করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *