রবিবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮, ৫:৩৮:৩৩ অপরাহ্ণ
Home » শিক্ষা » উপাচার্য না থাকায় চরম সংকটে কুবি

উপাচার্য না থাকায় চরম সংকটে কুবি

খায়রুল আহসান মানিক, কুমিল্লা:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপচার্য না আসায় চরম সংকটে চলছে। উপাচার্য অধ্যাপক আলী আশরাফ মেয়াদ শেষ হওয়ার ১ দিন আগে গত ২ ডিসেম্বর তার পুরনো কর্মস্থল চট্টগ্রাম  বিশ^বিদ্যালয়ে চলে যান। মধ্যে জানুয়ারি পর্যন্ত উপচার্যের শূণ্য পদে নিয়োগ না হওয়ায় ক্রমেই সংকট বাড়ছে। এ বিশ^বিদ্যালয়ে উপ উপচার্য ও কোষাধ্যক্ষ পদ শূণ্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত কিংবা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের কেউ নেই।

এই অবস্থায় প্রতিষ্ঠানের ১৮০ জন শিক্ষক, ৬৬ জন বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা ও ১৮৮ জন কর্মচারী বেতন ভাতা পাচ্ছে না। বেতন ভাতা পেতে উপচার্যের অনুমোদন লাগে।

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জানান, উপাচার্য না থাকায় ডিসেম্বর মাসের বেতন পাওয়া যায়নি। এতে করে শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ অসুবিধায় পড়বেন।

উপচার্য না থাকার কারণে আটকে আছে প্রথম ও স্নাতক সম্মান শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষাও।

ভর্তি কমিটি সূত্রে জনা গেছে, এই বিশ^বিদ্যালয়ে ২০১৭-২০১৮  শিক্ষাবর্ষ প্রথম স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার জন্য ৫৪ হাজার ৮০৯ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। গত নভেম্বর মাসের ১৭Ñ১৮ তারিখ ভর্তি হবার কথা থাকলেও তৎকালীন উপচার্য অধ্যাপক মোঃ আলী আশরাফের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে শিক্ষক সমিতি আন্দোলন করে। আন্দোলনের কারণে তিনি ৪৭ দিন তার কার্যালয়ে ঢুকতে পারেননি । এই কারণে ভর্তি পরিক্ষা স্থগিত হয়ে যায়। এতে করে ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকগণ অনিশ্চয়তায় পড়েন। এই সময় নতুন উপচার্য যোগদানের পর ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ আবু তাহের বলেন, উপচার্যের পদ শূন্য থাকায় ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। চলতি মাসের মধ্যে উপচার্য নিয়োগ না দিলে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলো কমিটি করতে উপচার্যের অনুমোদন লাগে। সেগুলোও আটকে আছে। এ ছাড়াও ডিন নির্বাচন, শিক্ষকদের বিদেশ যাওয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে আছে। এক কথায় বলা যায় বিশ্ববিদ্যালয় অভিভাবক শূণ্য হয়ে পড়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সরকারকে উপচার্য পদে নিয়োগ দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, উপচার্য নিয়োগের বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ মহলে প্রক্রিয়াধীন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সম্পর্কে মঞ্জুরী কমিশনের সাথে কথা বলছি। উপচার্য এলেই বেতন-ভাতার ব্যাপারটি সুরাহা হবে। উপচার্য না থাকায় ভর্তি পরীক্ষাও আটকে আছে। আশা করছি চলতি মাসেই এ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এমনিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত কাজ চলছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে উচ্ছুক শিক্ষার্থী তানজিম সুমন, রুমানা তাসনিম ও অনন্যা দাস বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় ইতোমধ্যে ভর্তি পরীক্ষা শেষ করেছে। শিক্ষার্থীদের ভর্তিও শেষ। অথচ কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয় এখন পর্যন্ত ভর্তি পরিক্ষার তারিখও ঘোষণা করতে পারেনি। আমরা হতাশায় আছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *