সোমবার, অক্টোবর ২২, ২০১৮, ১২:০১:০৬ পূর্বাহ্ণ
Home » অন্যান্য » উন্নয়নের মহাসড়কে মির্জাপুর সুষম উন্নয়নের ছবিসহ এলাকায় বিল বোর্ড

উন্নয়নের মহাসড়কে মির্জাপুর সুষম উন্নয়নের ছবিসহ এলাকায় বিল বোর্ড

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, স্টাফ রিপোর্টারঃ-
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বর্তমান সরকারের আমলে প্রায় ১৩শ কোটি টাকার সুষম উন্নয়ন মুলক কাজ হয়েছে।উন্নয়নের মহাসড়কে মির্জাপুর-এই শ্লোগান দিয়ে সুষম উন্নয়নের ছবি দিয়ে দুই শতাধিক বিশাল বিশাল বিল বোর্ড মির্জাপুর পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের গুরুত্বপুর্ন পয়েন্টে লাগানো হয়েছে।ব্রিজ-কালভার্ট, রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই সুষম উন্নয়ন মুলক কাজ হওয়ায় বদলে গেছে মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার চিত্র।যোগাযোগের ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে এক মাইল ফলক।মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ মো. একাব্বর হোসেনের একান্ত প্রচেষ্টায় গত ৯ বছরের ব্যবধানে মির্জাপুর পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন মুলক কাজ হয়েছে বলে জানা গেছে।আজ সোমবার উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে উন্নয়ন মুলক কাজের চিত্র দেখা গেছে।ইতিমধ্যে সরকারী হয়েছে মির্জাপুর সরকারী বিশ^বিদ্যালয় কলেজ ও মির্জাপুর এস কে পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়।
মির্জাপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিআরডি) অফিস সুত্র জানায়, এই অধিদপ্তরের অধিনে মির্জাপুর পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ব্রিজ-কালভার্ট, রাস্তা-ঘাট, বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাকা ভবন নির্মানসহ উন্নয়ন মুলক কাজ হয়েছে প্রায় ৪১০ কোটি টাকার।ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ১৪ ইউনিয়নে উন্নয়ন কাজ হয়েছে প্রায় ৩০৫ কোটি টাকা।সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিনে ওয়ার্শি-বালিয়া সড়ক উন্নয়নের কাজ হয়েছে ১১২ কোটি টাকার।গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা রোডের উন্নয়ন কাজ হয়েছে ৪৬ কোটি টাকার।পাকুল্যা-লাউহাটি রাস্তা উন্নয়নে ব্যয় হয়েছে ৮ কোটি টাকা।পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের অধিনে পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চারটি সাব স্টেশন স্থাপনসহ ১৫শ কি. মি. বিদ্যুৎ লাইন নির্মান ও মিটার সংযোগে উন্নয়ন হয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা।৩৮ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজে বহুতল ভবন উন্নয়নে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা।সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কার্যালয় থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের তিনটি উৎসব ভাতাসহ মাসিক ভাতা দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা।উপজেলা পরিষদ থেকে উন্নয়ন করা হয়েছে প্রায় ২৯ কোটি টাকা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যারয় থেকে ছোট ছোট ব্রিজ ও গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা।বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধি ভাতা দেওয়া হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি টাকা, অতি দরিদ্রদের জন্য ভিজিডি-ভিজিএফ দেওয়া হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি টাকা, ত্রান দেওয়া হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা।এছাড়া মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, মৎস, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় অধিদপ্তর, কৃষি অফিস, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ও পল্লী দারিদ্র বিমোচন অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন অধিদপ্তরের অধিনে এলাকায় কাজ হয়েছে এবং জনসাধারনের জন্য উন্নয়ন হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকার বলে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগন জানিয়েছেন।এছাড়া অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পাকা ভবন নির্মান, হত দরিদ্রদের জন্য গৃহনির্মান, পাহাড়ি এলাকায় ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টির জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গৃহনির্মান ও অসহায়দের জন্য আশ্রয়ন প্রকল্প নির্মানসহ বেশ কিছু উন্নয়ন মুলক কাজ হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।বংশাই নদীর উপর পারদিঘী ব্রিজ, থলপাড়া ব্রিজ, ত্রিমোহন এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ একাব্বর হোসেন ব্রিজ, লতিফপুর ব্রিজ, লৌহজং নদীর উপর গুনটিয়া ব্রিজ, বরাটি এলাকায় বাবু দুঃখীরাম রাজবংশী ব্রিজ, পুষ্টকামুরি ব্রিজ, পাহাড়পুর ব্রিজ, বহুরিয়া এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম নুরু ব্রিজ ও ওয়ার্শি এলাকায় পাকা ব্রিজ হওয়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে মাইল ফলক সৃষ্টি হয়েছে।
এলজিআরডি অফিস ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্র জানায়, পৌরসভায় ৪৮ কোটি টাকা, লতিফপুর ইউনিয়নে ৩২ কোটি টাকা, বানাইল ইউনিয়নে ১৯ কোটি টাকা, আনাইতারা ইউনিয়নে ১৮ কোটি টাকা, বাঁশতৈল ইউনিয়নে ২৬ কোটি টাকা, গোড়াই ইউনিয়নে ৪১ কোটি টাকা, জামুর্কি ইউনিয়নে ১৬ কোটি টাকা, ভাদগ্রাম ইউনিয়নে ২০ কোটি টাকা, ফতেপুর ইউনিয়নে ২১ কোটি টাকা, বহুরিয়া ইউনিয়নে ১৭ কোটি টাকা, মহেড়া ইউনিয়নে ১৮ কোটি টাকা, ওয়ার্র্শি ইউনিয়নে ২০ কোটি টাকা, তরফপুর ইউনিয়নে ১৫ কোটি টাকা, ভাওড়া ইউনিয়নে ১৫ কোটি টাকা ও আজগানা ইউনিয়নে ২১ কোটি টাকার উন্নয়ন মুলক কাজ হয়েছে।সরকারী হয়েছে মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজ ও মির্জাপুর এস কে পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়।এছাড়া আরও প্রায় ৩০০শ কোটি টাকার বেশ কিছু উন্নয়ন মুলক কাজ এখনও চলমান এবং প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ মো. একাব্বর হোসেন বলেন, আমি রাজনীতি করি জনগনের জন্য।এলাকার জনগন যাতে সুষম ভাবে উপকৃত হতে পারেন জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।আগামীতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে কিছু অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবো এবং মির্জাপুর বাসীকে একটি আদর্শ ও মডেল উপজেলা হিসেবে উপহার দিতে পারি এ জন্য আমি সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নজুরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় এমপির সহযোগিতায় মির্জাপুরে গত নয় বছরে যে উন্নয়ন মুলক কাজ হয়েছে তা দেশের অন্য কোন উপজেলায় এত কাজ হয়নি।প্রতিটি কাজই সুষ্ঠুভাবে হয়েছে।কিছু চলমান এবং কিছু কাজ প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *