শুক্রবার, জুন ২২, ২০১৮, ১১:৪১:২২ অপরাহ্ণ
Home » অন্যান্য » ঈদে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু জাতীয় মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে প্রশাসনের মহাপরিকল্পনা

ঈদে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু জাতীয় মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে প্রশাসনের মহাপরিকল্পনা

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
ঢাকা-টাঙ্গাইল মাহসড়ক এবং বঙ্গবন্ধু সেতু জাতীয় মহাসড়ক যানজট মুক্ত রাখতে টাঙ্গাইলের প্রশাসনের কর্মকর্তাগন মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।এবারের ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি ফিরতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট থাকছে না বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।এ উপলক্ষে আজ সোমবার টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় র‌্যাব, পুলিশ, চার লেন প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা, পরিবহন মালিক ও পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।
যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন কোন কারন ছাড়াই চলছে এ মহাসড়কে যানজট।টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা যাওয়ার দেড় ঘন্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ৮-১০ ঘন্টা।তীব্র যানজটের ফলে নারী, শিশু ও রোগী এবং বৃদ্ধাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।পুলিশ সুত্র জানায়, এ মহাসড়কের যানজটের অন্যতম কারন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চার লেন প্রকল্পের কাজে ধীর গতি, বৃষ্টির কারনে বেশির ভাগ রাস্তায় খানা খন্দক ও ছোট বড় গর্ত। চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত এই ৭০ কি. মি. মহাসড়কের অধিকাংশ স্থানে পিচ ঢালাই উঠে ছোট বড় অসংখ্য খানা খন্দক সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল অত্যান্ত ঝুঁকিপুর্ন ও মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে।মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে কাঁচা মাটি ফেলায় এবং ব্রিজ নির্মানের কাজ করায় যানজট হওয়ার অন্যতম কারন।এছাড়া মহাসড়কের কুরনি বাস স্ট্যান্ড, মির্জাপুর বাইপাস ও কালিয়াকৈর এলাকায় আন্ডার পাস নির্মান কাজের জন্য খুড়াখুড়ির কারনে এবং ভাঙ্গা চোরা গর্তে যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাক বিকল হয়ে যানজট আরও অসহনীয় করে তুলেছে।মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই যানজট এখন চন্দ্রা থেকে গাজীপুর ও চন্দ্রা থেকে বাইপাইল-নবীনগর ও বাইপাইল –আশুলিয়া- উত্তরা পর্যন্ত ছড়িয়ে পরে।
গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশ জানায়, মির্জাপুরের ধেরুয়া রেলওয়ে অভার পাস নির্মান, কোনাবাড়ি অভার ব্রিজ ও চন্দ্রা এলাকায় অভার ব্রিজ নির্মানের ফলে দুই দিক থেকে আসা ও যাওয়ার পথে যানবাহন ঠিকমত পারাপার হতে পারছে না। একদিকে বৃষ্টি অপর দিকে তীব্র যানজটের কারনে এ রোডের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে হাইওয়ে পুলিশ স্বীকার করেছেন।
এ দিকে আজ সোমবার টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়।জরুরী সভায় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মো. নেছার উদ্দিন জুয়েল।সভায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ঈদের আগে ও পরে যানজট মুক্ত রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে।মহাসড়কে মোবাইল পেট্্েরালিং, স্টাইকিং ফোর্স, হোন্ডা মোবাইল, পুলিশের ফিক্্রড উিউটি, লিংরোডে বাঁশকল স্থাপন, অতিরিক্ত রেকার ব্যবস্থা, ঈদের তিন দিন আগে ট্রাক লড়ি ও কাভার্ড ব্যান বন্ধ রাখা, ফিটনেস বিহিন গাড়ী চলাচল বন্ধ রাখা, ঢাকা-মানিকগঞ্জ রোডের কালামপুর থেকে ওয়ার্মি-বালিয়া-মির্জাপুর রাস্তায় যানবাহন চলাচল সচল রাখা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মহাসড়কে নজরদারী বাড়ানো এবং চার লেন প্রকল্পের নির্মান কাজে নিয়োজিত দুটি সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জরুরী মুহর্তে মহাসড়কে প্রস্তুত রাখাসহ আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সুত্র জানিয়েছে। এছাড়া মহাসড়ক দেখবালের জন্য চৌরাস্তা থেকে ক্যাডেট কলেজ ও চন্দ্রা থেকে নবীনগর দেখাশোনা করবে গাজীপুর ও ঢাকা জেলা পুলিশ, ক্যাডেট কলেজ থেকে নাটিয়াপাড়া পর্যন্ত মির্জাপুর থানা পুলিশ, নাটিয়াপাড়া থেকে করটিয়া পর্যন্ত বাসাইল ও দেলদুয়ার থানা পুলিশ, করটিয়া থেকে এলেঙ্গা ও বঙ্গবন্ধও সেতু পর্যন্ত দেখাশোনা করবে টাঙ্গাইল, কালিহাতি, ভুয়াপুর ও বঙ্গবন্ধু সেতু থানার পুর্ব প্রাপ্ত থানা বলে পুলিশ সুত্র জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন,মহাসড়কের চার লেনের কাজ হওয়ায় এবং প্রবল বৃষ্টির কারনে যানজট চলছে।যানজট নিরসনের জন্য ট্রাফিক পুলিশ, থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।আজ সোমবার জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সম্মেলন কক্ষে জরুরী সভায় নানা পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে।আশা করা যাচ্ছে সবার সহযোগিতায় এ বছর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসকে কোন যানজট থাকবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *