সোমবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৮, ৫:০১:৫২ অপরাহ্ণ
Home » জাতীয় » ইয়াবা বন্ধে মিয়ানমার সহায়তা করছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইয়াবা বন্ধে মিয়ানমার সহায়তা করছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ইয়াবা পাচার রোধে মিয়ানমারের সঙ্গে তিনটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইয়াবার উৎপাদন ও প্রবাহ বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত ইয়াবা তৈরির কারখানা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাদের অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো সহায়তা করছে না। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাবে এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সোমবার সংসদের বৈঠকে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রশ্ন টেবিলে উত্থাপিত হয়। সরকারি দলের ইসরাফিল আলম ও পিনু খানের পৃথক প্রশ্নের জবাবে স্বররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ইয়াবার সরবরাহ বন্ধে কপবাজারের টেকনাফে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ জোন স্থাপনে কাজ চলছে।

মন্ত্রী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে সব বাহিনী বদ্ধপরিকর। মাদকসম্রাট বা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে তাদের তালিকা ধরে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জানান, ২০১৭ সালে এক লাখ ৩২ হাজার ৮৮৩ জন মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এক লাখ ৬ হাজার ৫৩৬টি মামলা করা হয়েছে। এ সময়ে চার কোটি ৭৯ হাজার ৪৪৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। চলতি বছরে (জানু-মার্চ) ২৭ হাজার ৩৪০টি মামলায় ৩৫ হাজার ১১২ জনকে গ্রেফতার এবং তিন কোটি ২৮ লাখ ৬১১ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। ২০১৬ সালে ৮৭ হাজার ১৪ জন মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ৬৯ হাজার ৬৩৯টি মামলা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার হয়েছে দুই কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ১৭৮ পিস ইয়াবা।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ছাড়াও জেলা প্রশাসন অবৈধ মাদক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে সংরক্ষিত আসনের হাজেরা খাতুনের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত বছর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৭ হাজার ১৯৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

পিনু খানের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে কারও কাছে মাদক পাওয়া না গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে মাদক ব্যবসায় জড়িত মাস্টারমাইন্ডরা সহজেই পার পেয়ে যায়। মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষক ও গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

চার কোটি ৫৮ লাখ মানুষ অর্থনৈতিক কর্মে জড়িত নয়

ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে লেবার ফোর্স সার্ভের উদ্ধৃতি দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, কোনো ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন এমন জনশক্তির সংখ্যা দেশে ৪ কোটি ৫৮ লাখ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে ১৫ বছরের কম বয়সী ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ, পনের থেকে ৬৪ বছর পর্যন্ত ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। আর দেশের প্রতিবন্ধী জনসংখ্যার হার শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *