শুক্রবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৮, ৭:৩০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
Home » অপরাধ » ইসলামপুরে দরিদ্র মহিলাকে মামলার ফাঁদে ফেলে বাড়ীর জমি আত্মঃসাতের পাঁয়তারা ॥ আদালতে মামলা দায়ের

ইসলামপুরে দরিদ্র মহিলাকে মামলার ফাঁদে ফেলে বাড়ীর জমি আত্মঃসাতের পাঁয়তারা ॥ আদালতে মামলা দায়ের

রাজবাড়ী প্রতিনিধি ॥
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শেকাড়া গ্রামের অসহায় প্রতিবন্ধি এক মহিলাকে মামলার ফাঁদে ফেলে তার বসত বাড়ীর জমি আত্মঃসাতের পাঁয়তারা করছে এক শ্রেনীর ভূমিগ্রাসী। তারা উক্ত মহিলাকে তার বাড়ী থেকে তারাবার জন্য তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউণিয়নের শেকাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোছা. লাকি আক্তারের এস এ ১৭৫ নং খতিয়ান, বিএস ৫৭৭ নং খতিয়ানের দাগ ১৩৩৯ নং বিএস ১৩২৭ দাগে পোনে ৩ শতাংশ জমি ইসমাইলের। মিসপি ৮৮৪/১৫ ধারা ফৌজদারী কার্যবিধি ১০৭/১১৪/১১৭(সি)। রাজবাড়ী বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রিট আদালত। স্মারক নং ৭৩৬ তারিখ ১৪/০৯/২০১৫। খন্দকার রেজাউল হক, গ্রাম শেকাড়া তার জাতীয় পরিচয় পত্র নং ২৬৯৯০৪০৭১৬২৮৮। তিনি সরকারী চাকরী করলেও পেশার স্থলে লিখেছেন কৃষিকার্য্য। অপরদিকে লাকি আক্তার স্বামী ইসমাইল ব্যাপারী গ্রাম শেকাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র নং ৮২১০৭৪৭৭২৯০৬৩ পেশা গৃহকার্য্য। লাকিকে নিয়ে আব্দুল মালেক শেখ, সাইফুল ইসলাম ওরফে সেলিম মিয়া ও রেজাউল হক তাদের কথিত পীর নুরাল পাগলের দরবারে নিয়ে গিয়ে তাকে দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ছলনামুলক কথাবার্তা শুনিয়ে মন গলিয়ে ফেলেন। এবং তাকে প্রতিবন্ধি ভাতা ও টিকিৎসার কার্ড করে দেবার কথা বলে তার নিকট থেকে পরিচয়পত্র ও ছবি সংগ্রহ করে স্থানীয় দলিল লেখকের মাধ্যমে একটি সম্পাদন দলিল গঠন করে। সেখানে তারা নিজেরাই স্বাক্ষর করে। সেটা যখন ঠিক হয়নি তখন লাকিকে দিয়ে চিকিৎসার কথা বলে লাকির স্বাক্ষর করায়। এই স্বাক্ষর নেওয়ার সময় তারা লাকিকে বলে খুব তারাতারী তোমার চোখের চিকিৎসা শুরু হবে। অথচ ৬৬ নং নারায়নপুর মৌজার একখন্ড জমি পরিমান পোনে ৩ শতাংশ মূল্য নির্ধারন করেন ৮ লক্ষ টাকা। এস,এ খতিয়ান নং ১৭৫, বিএস খতিয়ান ৫৭৭ নং খতিয়ানের দাগ নং আর এস ১৩৩৯/বাঃআঃ ১৪৭৭ বাড়ী ১১ শতাংশের মধ্যে পোনে ৩ শতাংশ। এই জমিটি তারা লিখিয়ে নেওয়ার জণ্য বিভিন্ন প্রকার পাঁয়তারা করে আসছে। এরপর গত ১৪/০৬/১৫ তারিখে ৩২৯৬/১৫ নং বায়নানামা দলিল প্রস্তুত করে এবং লাকির জাল স্বাক্ষর দেখিয়ে রেজিষ্ট্রি দেখায়। ধার্য্যকৃত মূল্য ৮ লক্ষ টাকা যার মধ্যে ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে মর্মে বায়নানামায় দেখানো হয়। বাঁকি ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে লাকির জমিটি ক্রয়ের জন্য পাঁয়তারা করেন এই চক্রটি। এই বায়নানামায় দাতা একজন এবং গ্রহীতা একজন। এখানে পরিলক্ষিত হয় খন্দকার রেজাউল হকের নামের স্বাক্ষর ঠিক থাকলেও লাকির নামের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এবং সেই স্বাক্ষর করেছে ছালাম নামের কোন এক ব্যক্তি। কারণ ছালামের নামের স্বাক্ষরের সঙ্গে অক্ষরের হুবহু মিল রয়েছে। ইসলামপুর ইউনিয়নের ৬৬নং নারায়ণপুর মৌজার এসএ ১৭৫ নং খতিয়ানের জমি ভিন্ন মালেকের নিকট থেকে ইসমাইল ব্যাপারী ২৯/০৮/১৯৯৬ তারিখে ২৯০৯নং কবলা দলিল মূলে ক্রয় করে বিএস৫৭৭নং খতিয়ানের জমিটি নিজ নামে রেকর্ড হয়। তার নিকট হতে লাকি গত ১২/০৫/২০১৪ তারিখের ১৮৮৬নং হেবা ঘোষনাপত্র মূলে প্রাপ্ত হয় এবং গত ১৬/০৮/২০১৫ তারিখের এ/সি (ও)-ওঢ-১-২৬/২০১৫-২০১৬, ট.খ.অ.ঙ-ওঢ-চ-১-২৬(ইউ)২০১৫-২০১৬নং কেসে বিএস প্রস্তাবিত ৬৫০নং খতিয়ানে নিজ নামে নামপত্তন করে সত্তবান ও দখলকারীনী হয়ে আছে। আরএস ১৩০৯/বিএস ১৪৭৭ জমি ১১ শতাংশের মধ্যে পোনে ৩ শতাংশ। উক্ত দলিল করায় স্বাক্ষি হয়েছেন ডহর পাঁচুরিয়া গ্রামের রনজিত রায়ের ছেলে গৌরাঙ্গ রায় ও বাবুল।
মামলার বাদী খন্দকার মো. রেজাউল হক এবং বিবাদী মোছা. লাকি আক্তার দেওয়ানী মামলা নং ৯৪/২০১৭। ০৮/০৪/২০১৮ লাকিকে দে, আ, বি ২০/০৪/২০১৭, তারিখে অর্ডার ৭ রুল ১১ এর বিধান মতে প্রতিবন্ধি লাকি আক্তার খারিজ প্রার্থনা করেন। গত ১৪/০৯/২০১৫ তারিখে সম্পাদিত ও রেজিষ্ট্রিকৃত বায়নানামা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আমাদের মধ্যে পরিশোধের কথা জানালেও তা গত ২৮/০৫/২০১৬ তারিখে তা শেষ হয়। অথচ ১ বছর ৫ মাস পর দায়েরকৃত বাদীর দায়েরকৃত মামলাটি আইনতঃ খারিজ যোগ্য। দৃষ্টি প্রতিবন্ধি লাকি আক্তার কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, বালিয়াকান্দি থানায় আমাকে দিয়ে মামলা করায় নারায়নপুর গ্রামের কেসমত আলী শেখের ছেলে আব্দুল মালেক ওরফে নীল মালেক, মো. সাইফুল ইসলাম মিয়া ওরফে সেলিম মিয়া, সংসদ ভবনে কর্মরত খন্দকার মো. রেজাউল হক। সেই মামলায় তাদের কথামত আসামী করা হয়, আতিয়ার ব্যাপারী, সামছুল হক মাতব্বর, সাহেব আলী, দিলু আহম্মেদসহ কয়েকজনকে। তিনি এদের নামে মামলা করতে রাজি না হলে তাকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিয়ে মামলা করায়। কথাছিল এই মামলায় যত টাকা খরচা হবে সব মালেক, রেজাউল ও সেলিম মিয়া দিবে। কারন লাকি তাদের গুরু বোন। ভক্ত হওয়ার পর এই প্রতিবন্ধি লাকিকে বলেন, আমরাতো এখন সবাই গুরু ভাই গুরুবোন। আর তুমি যখন প্রতিবন্ধি তোমার চোখ সরকারীভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে তুমি তোমার ছবি ও ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি দাও। সরল মনে লাকি ছবি ও কার্ডের ফটোকপি দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই কু-চক্রীরা তার সরলতার সুযোগ গ্রহন করে তার বাড়ীর জমির বায়নানামা তৈরী করেছে। লাকি জানায় বায়নানামায় যে স্বাক্ষর করা হয়েছে সেটা আমার স্বাক্ষর নয় সেটা জাল। আমি জমি বিক্রি করতে চেয়েছিলাম। কিন্ত্র কোন টাকা পয়সা জমি বাবদে গ্রহন করিনাই। তারা বেশ কিছু টাকা ব্যয় করেছে সেটা মামলা ব্যাপারে। আমি তো মামলা করতে চাইনি। আমাকে উস্কানী দিয়ে এলাকার নিরিহ মানুষদের নামে মামলা করতে বাধ্য করেছে। আমি আমার ভূল বুঝতে পেরে আমার এলাকার মানুষের নিকট ক্ষমা প্রার্থী। তবে এই দূস্কৃতকারীদের সাজা হওয়া বাঞ্ছনিয়। আমার স্বাক্ষর জাল করে একটি বায়নানামা দলিল করেছে। এবং বায়নানামা দাবীতে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে রাজবাড়ী আদালতে। মালেক শুধু এখানেই নয়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পীরের দোহাই দিয়ে অনেক মানুষের নিকট থেকে টাকা পয়সাসহ অনেক কিছু হাতিয়ে নিয়েছে। লাকি অভিযোগ করে বলেন, মালেক আমাকে দিয়ে তার বাড়ীর কাজকর্মও করিয়েছে। তিনি বলেন, আমার স্বামী আমার নামে জমিটি লিখে দেওয়ার পর মো. সাইফুল ইসলাম মিয়া ওরফে সেলিম মিয়া জমিটির নাম খারিজ করিয়ে দেওয়ার জন্য মোট ৮ হাজার টাকা এবং ধার বাবদ ৪ হাজার টাকা নিয়েছে। ধারের টাকা চাইতে গেলে আমাকে প্রাণে মারার হুমকি দেয়। মো. রেজাউল হকের সঙ্গে এলাকার বেশ কয়েকজন আলোচিত ব্যক্তিবর্গ আতাত করে এই দরিদ্র পরিবারটিকে তার বসত বাড়ী থেকে উচ্ছেদ করতে বিভিন্ন প্রকার পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি কোন জমি বিক্রি করিনাই। আমার নিকট থেকে আমার চোখের চিকিৎসার কথা বলে আমার কাগজপত্র ফটোকপি করে নিয়ে তারা আমার জমি বিক্রি করার কথা লিখে নিয়ে বিভিন্নভাবে আমাকে হয়রানী করছে। তারা কিছু টাকা আমার জন্য খরচ করেছে তবে সেটা জমি সংক্রান্ত কোন বিষয় নয়। আমি কোন ভাবেই আমার এলাকার সাধারন মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইনি। আমাকে দিয়ে ফুঁসলিয়ে মামলা করিয়ে কোর্টে থানায় খরচ করেছে। সেই হিসাবটিই এখানে উল্লেখ করে আমার বসত ভিটা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। আমি এই কুচক্রীদের হাত থেকে বাঁচতে দেশের উর্দ্ধতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমার যদি বাড়ী থেকে সরে যেতে হয় তবে আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন পথ আমার সামনে খোলা নেই।
এলাকার অনেকেই বলেন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে কর্মরত কর্মচারী মো. রেজাউল হক গাঁট বেধেছে এলাকার একশ্রেণীর প্রতারকদের সঙ্গে। এবং তাদের দিয়েই তিনি প্রতারনার বীজ বুনছেন এলাকার মধ্যে। তাঁর নিকট তার নিজের ভাই থেকে অনেক বড় সম্পর্কের লোক রয়েছে। তাদেরকে নিয়েই তিনি চলাচল করে থাকেন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে সঙ্গী হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *