বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৮, ২:৩৩:৪৫ অপরাহ্ণ
Home » জাতীয় » আন্ধারমানিক নদী আর আন্ধার থাকবে না এখন আলোকিত হবে। পায়রা সমুদ্র বন্দর উদ্ধোধন কালে-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আন্ধারমানিক নদী আর আন্ধার থাকবে না এখন আলোকিত হবে। পায়রা সমুদ্র বন্দর উদ্ধোধন কালে-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

pm-pic-patuakhaliআবুল হোসেন তালুকদার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পায়রা সমুদ্র বন্দর যে আন্ধারমানিক নদীর পারে গড়ে উঠেছে সেই আন্ধারমানিক নদী আর আন্ধার থাকবে না আন্ধারমানিক এখন আলোকিত হবে। এই এলাকার মানুষও আলোকিত জীবন পাবে।বাংলাদেশের জনগনের ভাগ্য নিয়ে ভবিষতে আর যেন কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা সংবিধান সংশোধন করে জনগনকেই সকল ক্ষমতার অধিকারী করেছি। জনগন ভোট দেবে ভোটের মাধ্যমেই তারা সরকার নির্বাচন করবে। এটাই হচ্ছে তাদের সাংবিধানিক অধিকার। সংবিধানে জনগনের যে মৌলিক অধিকার রয়েছে এই মৌলিক অধিকারগুলো আমরা নিশ্চিত করেছি।বিএনপি-জামায়াত জোটের দেশের উন্নয়ন ও স্বাধীনতা রক্ষায় কোন ভূমিকা ছিলো না। যখন নিজেদের ভাগ্য গড়তে কি নেবে কি খাবে এতেই ব্যস্ত ছিলো। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে দেশেকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। তাই আগামী নির্বাচনে নেীকা মার্কায় ভোট দেয়ার আবেদন জানান তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার আন্ধারমানিক নদীর চ্যানেলের টিয়াখালীতে দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর উদ্ধোধন শেষে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
নেী-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব মাহবুবুর রহমান তালুকদার, নেী-বাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল ফরিদ হাবিব, জাতীয় সংসদের হুইপ ও নেী পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি নূর আলম চেীধুরী লিটন, নেী-পরিবহন সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান রিয়াল এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন দেখতেন বাংলাদেশকে সুইজারল্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু ৭৫’র জাতীর পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে দেশের উন্নয়নে বাধাগ্রস্থ করেছে। সেই থেকে ৩৮ বছর বাংলাদেশের মানুষ বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে গনতন্ত্রের জন্য, বেঁচে থাকার জন্য ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য। প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যেতে হচ্ছে। ৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর আমরাই প্রথম প্রমান করি সরকার জনগনের সেবক। ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছিলো স্বর্নযুগ। কলাপাড়ার পায়রা বন্দরকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ বন্দর ঘেষে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র সহ জাহাজ নির্মান ও জাহাজ রিসাইকিলিন কারখানা গড়ে তোলা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকির মুখে থাকা কলাপাড়া বাসীকে রক্ষায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে এলাকায় বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ নেী বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য আমরা বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। কলাপাড়ায় নির্মিত শেরে বাংলা নেী ঘাটি চালু হলে সুন্দরবন এলাকায় যে জলদস্যুদের কবলে মানুষ প্রতিনিয়ত নানারকম অসুবিধা ভোগ করে তা রোধ হবে। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড উপস্থাপন করে তিনি বলেন তারা সোনাদিয়া দ্বীপে আরেকটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মানের প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এ জন্য বিভিন্ন দেশের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তিনি আশা করেন ২০২১ সালে আমরা যখন স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তী পালন করব তখন আমরা ক্ষুধা, দারিদ্র মুক্ত অর্থনৈতিক উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।।
প্রধানমন্ত্রী কলাপাড়ায় আগমন করে প্রথমেই পায়রা বন্দরে দাড়িয়ে পটুয়াখালী মুক্তিযোদ্ধা কমপে¬ক্স, শিশু একাডেমী কমপে¬ক্স, বাউফল উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রি অফিষ উদ্ধোধন এবং কুয়াকাটাগামী বিকল্প সড়কের আন্ধারমানিক নদীর বালিয়াতলী পয়েন্টে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু ও লালুয়ায় বাংলাদেশ নেী-বাহিনীর শের ই বাংলা নৌ-ঘাঁটি, পটুয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন ও বাউফল থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। কলাপাড়ায় সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী বিকাল ৪টায় বরগুনার তালতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসভায় যোগদান করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্ধোধন ও ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *