সোমবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৭, ১:৫১:০৪ অপরাহ্ণ
Home » সারাদেশ » আজ ০৭ ডিসেম্বর বালাগঞ্জ মুক্ত দিবস

আজ ০৭ ডিসেম্বর বালাগঞ্জ মুক্ত দিবস

এম এ কাদির বালাগঞ্জ : আজ ০৭ ডিসেম্বর বালাগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এম.এ.জি ওসমানী’র পৈত্রিক ভূমি বালাগঞ্জ উপজেলা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী’র কবল থেকে মুক্ত হয়। আজ বালাগঞ্জবাসীর বহু কাংখিত বিজয়ের সেই স্মরণীয় দিন, বালাগঞ্জ মুক্ত দিবস। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ০২ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য’র রাতাছড়া থেকে ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধা বালাগঞ্জ’র উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। বীর যোদ্ধা আজিজুল কামালের নেতৃত্বে এ বাহিনীর সদস্য সহযোদ্ধা হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে আরও ছিলেন, মুছবিবর বেগ, শফিকুর রহমান, মনির উদ্দিন, ধীরেন্দ্র কুমার দে, নীহারেন্দু ধর, আব্দুল খালিক, জবেদ আলী , সিকন্দর আলী, আমান উদ্দিন, লাল মিয়া, মনির আহমদ আহমদ, মজির উদ্দিন আহমদ, মো. সমুজ আলী এবং আব্দুল বারী প্রমুখ। এদের মধ্যে ২৬ জন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পথে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা সদরে থেকে যান। বাকী ১৪ জনের দলটি ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর অধিনায়ক আজিজুল কামালসহ ফেঞ্চুগঞ্জ থানার মাইজগাও এলাকার আব্দুল গণি মাস্টার ও বদরুল হক নিলু’র বাড়ীতে উঠেন। সেখান থেকে একই রাত ১২টার সময় রওয়ানা হয়ে রাত ০২টার সময় ইলাশপুর রেল সেতু’র নিকট অবস্থান গ্রহণ করেন। পরদিন ভোরে একদল পাক সেনা সিলেট থেকে ফেঞ্চুগঞ্জের দিকে অগ্রসর হলে মুক্তিবাহিনী’র সাথে মুখোমুখি হয়। সেখানে প্রায় আধা ঘন্টা যুদ্ধ চলে। পাকিস্তানীরা শেষ পর্যন্ত ২টি এস.কে.এস রাইফেল ও বেশ কিছু গোলা বারুদ ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা ইলাশপুর সেতু অতিক্রম করেন। এ সময় বড়লেখা থেকে ২৬ জনের দলটিও সেখানে এসে পৌঁছে যায়। এতে উভয় দলের মনোবল আরো বেড়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা ইলাশপুর সেতু’র অবস্থান থেকে ৬ ডিসেম্বর ভোর রাতে রওয়ানা হয়ে সন্ধ্যা ৭টার সময় প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে বর্তমান বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র কাছে পৌঁছতে সক্ষম হন। এরপর সেখানে অবস্থান করে শুরু হয় তথ্য সংগ্রহের পালা। খবর পাওয়া গেল-পাক হানাদার বাহিনী নেই। তবে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জববার’র নেতৃত্বে একদল বাঙ্গালী পুলিশ রয়েছে। সেদিন রাজশাহীর বদিউজ্জামান, বিয়ানীবাজার নিবাসী ডা. জাকারিয়া ও কাজীপুর নিবাসী আব্দুছ সুলতান বার্তা বাহক’র কাজ করেন। ইতিমধ্যে রাত নেমে আসে। রাতেই মুক্তিযোদ্ধারা থানা ভবনে অবস্থানকারী পুলিশ বাহিনীকে ঘেরাও করে ফেলেন। পরদিন ৭ ডিসেম্বর সকালে বার্তা বাহক দুই জনকে দিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’র নিকট আত্মসমর্পসের নির্দেশ পাঠান। পুলিশ বাহিনী তখন দুই ঘন্টা সময় চায়। কিন্তু অধিনায়ক আজিজুল কামাল ঘোষণা করেন বড়জোড় ১০ মিনিট সময় দেওয়া যেতে পারে। অতঃপর সিদ্ধান্ত হয়-পাক হানাদারদের এই দোসররা সকাল ৯টায় অস্ত্র সমর্পণ করবে। এই সিদ্ধান্ত মোতাবেক পুলিশ বাহিনী থানা ভবন’র মালখানায় অস্ত্র জমা দেয় এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সকাল পৌনে ১০টার সময় মুক্তি বাহিনী অধিনায়ক’র নিকট চাবি হস্তান্তর করে। সেদিন আত্মসমর্পণ’র পর উপজেলা সদরস্থ সাব রেজিস্ট্রারী অফিস প্রাঙ্গণে মুক্তিকামী মানুষের ভিড় জমে। চোখে চশমা পরিহিত অধিনায়ক আজিজুল কামাল হাতে স্টেনগান নিয়ে উপস্থি্ত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা শান্ত থাকুন, এখানকার সব কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, বালাগঞ্জের পুলিশ বাহিনী এবং রাজাকাররা আমাদের কাছে সারেন্ডার করেছে। আজ আমরা মুক্ত। তারপর সকাল ১০টার সময় থানার সমুখস্থ প্রাঙ্গণে কুয়াশা ঘন সকালে মাঠের এক পার্শ্বে মুক্তিবাহিনী সারিবদ্ধ ভাবে লাইন করে এটেনশন অবস্থায় দাঁড়ান। সবার হাতে অস্ত্র। লিডার আজিজুল কামাল দল’র মুক্তিবাহিনী’র ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে পরিচয় করিয়ে দেন। আর থানার মাঠে জড়ো হওয়া সবাই চুড়ান্ত বিজয়ী হয়ে সৃষ্টি সুখের উল্লুাসে ছড়িয়ে পড়েন বালাগঞ্জের গ্রাম থেকে গ্রামে। এমনি ভাবে পশ্চিমা হানাদার মুক্ত হয় বালাগঞ্জ উপজেলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *