শুক্রবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৮, ৬:৪৩:৫০ অপরাহ্ণ
Home » অর্থনীতি » আজ ফের দুদকে যাবেন বাচ্চু

আজ ফের দুদকে যাবেন বাচ্চু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বেসিক ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত আব্দুল হাই বাচ্চুকে আজ তৃতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত ওই নোটিশটি গতকাল রবিবার তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে তাকে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৯টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে হাজির হতে। এর আগে বাচ্চুকে গত ৪ ডিসেম্বর ও ৬ ডিসেম্বর দুই দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।

এর মধ্যে গত ৬ ডিসেম্বর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর গত ১৭ ডিসেম্বর তাকে তৃতীয়বারের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা ছিল। ওই দিন তিনি কথিত ‘অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে এক মাস সময় চেয়ে দুদকে লিখিত আবেদন করেন। তবে দুদক তার আবেদন নাকচ করে দেয়।

বাচ্চুকে ২০০৯ সালে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে ২০১৪ সালে চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন।

বাচ্চু চেয়ারম্যান থাকাকালেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংটির ঋণ বিতরণে অনিয়মের ঘটনাগুলো ঘটে, পরে দুদক ৫৬টি মামলা করে। দুই দিনে ৫৬টি মামলার মধ্যে ১৫টির বিষয়ে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

প্রথম দিন জিজ্ঞাসাবাদের পর বাচ্চু সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ঋণে অনিয়মের ঘটনায় নিজেকে তিনি দোষী মনে করেন না।
বাচ্চুকে আসামি না করেই মামলা দায়েরের পর সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে। সুপ্রিম কোর্টের কয়েক দফা পর্যবেক্ষণ আসার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেয় দুদক।

মামলায় অভিযোগ বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আগে বিক্রি করা জমি বন্ধক দেখিয়ে ও অতিরিক্ত মূল্য ধরে এবং প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র গ্রহণ না করে ও যথাযথ যাচাই না করে ঋণ মঞ্জুরের শর্ত ভঙ্গ করে বেসিক ব্যাংক বাবু বাজার শাখা থেকে ৫ কোটি ৭৯ লাখ ৮১৬ টাকা ঋণ দেওয়া হয় মেসার্স ইসকল ফুড অ্যান্ড বেভারেজকে। ওই ঋণ সুদ আসলে ৭ কোটি ৮৫ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৮ টাকা দাঁড়িয়েছে, যা আসামিরা আত্মসাৎ করেছেন।

২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে মোট সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তে নামে দুদক।

ঋণপত্র যাচাই না করে জামানত ছাড়া, জাল দলিলে ভুয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দানসহ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিধি বহির্ভূতভাবে ঋণ অনুমোদনের অভিযোগ ওঠে ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে।

প্রায় চার বছর অনুসন্ধান শেষে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় গত বছর রাজাধানীর তিনটি থানায় ১৫৬ জনকে আসামি করে ৫৬টি মামলা করে দুদক। আসামিদের মধ্যে ২৬ জন ব্যাংক কর্মকর্তা এবং বাকিরা ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক জরিপ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *