রবিবার, এপ্রিল ২১, ২০১৯, ৯:৩৬:০৬ অপরাহ্ণ
Home » ফেইসবুক কর্ণার » আগৈলঝাড়ায় উন্নয়নের বাঁধে আটকা দু’সহস্রাধিক কৃষকের চাষাবাদ

আগৈলঝাড়ায় উন্নয়নের বাঁধে আটকা দু’সহস্রাধিক কৃষকের চাষাবাদ

বরিশাল সংবাদদাতা
সড়ক ও জনপথের উন্নয়ন কাজে মন্থরগতির কারণে বরিশালের আগৈলঝাড়ার দুই সহস্রাধিক কৃষক ধান রোপন করতে পারছেন না। রাজিহার ও গৈলা খালের মুখে দু’টি বাঁধ দেয়ায় ৩৫টি ব্লক পানি সংকট থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া এর সাথে ছোট ছোট খালগুলো শুকিয়ে গেছে। দ্রুত বাঁধ কেটে দেয়া না হলে কোনভাবেই উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় পৌছানো সম্ভব হবে না।
আগাম বোরো ধান রোপনের সাথে সংশ্লিষ্ট কৃষকরা জানিয়েছেন, বরিশাল সড়ক বিভাগের আওতায় উপজেলা সদর থেকে ঘোষেরহাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন ও থানার সামনে ব্রীজ নির্মান কাজের গাইড ওয়াল নির্মানের লক্ষ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা ১০ থেকে ১২ দিন পূর্বে ওই দু’টি খালে বাঁধ দেয়। বাঁধ দেয়াকালে বলা হয় স্বল্প সময়ের মধ্যে তা তুলে নেয়া হবে। এ কারনে কৃষকরা বাঁধ দিতে কোন ধরনের বাধা দেননি। কিন্তু ওই বাধ দেয়ার পর থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আর ধারে কাছে আসেননি। এমনকি কাজও শুরু হয়নি।
এদিকে আগাম বোরো ধানের সময় চলে এসেছে। এখন ধানের চারা রোপন করতে গিয়ে খেতে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ওই দু’টি স্থানে বাধ দেয়ায় ৩৫টি ব্লকে পানি আসছে না। এতে করে দুই হাজার কৃষক মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন। কৃষকরা বলেন, উন্নয়ন কাজের জন্য চাষিদের কথা বিবেচনা করে খালে পানি চলাচলের ব্যবস্থা রাখার দরকার ছিল। কিন্তু ঠিকাদার খামখেয়ালী করে বাঁধ দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তারা আরো জানান, প্রধান খালে বাঁধ দেয়ায় ওই খালসহ শাখা খালগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় ইরি ব্লকের মেশিনগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অথচ সেচ কাজের জন্য পৌষ মাস থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত কৃষকদের মেশিন চালানো দরকার। খালে দেয়া ওই দু’টি বাঁধ দ্রুত অপসারণ না করলে উপজেলা সদরের উরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল বিশেষ করে রাজিহার ও গৈলা ইউনিয়নের সমগ্র এলাকা এবং বাকাল ইউনিয়নের আংশিক এলাকায় পানি সেচ বন্ধ থাকায় কৃষকদের কাঙ্খিত উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পরবে। আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পরবে কৃষকরা।
উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র মন্ডল জানান, চলতি বছর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ৯ হাজার ৬শ ৬৩ হেক্টর জমি ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রীড ৬ হাজার ৫শ ৪৭হেক্টর ও উফসী ৩হাজার ১শ ১৬হেক্টর জমি। কৃষি বিভাগ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৪৩৩১৩ মে.টন চাল। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চলতি বোরো মৌসুমে ইতোমধ্যেই ১ হাজার ৭শ‘হেক্টর জমিতে আগাম বোরো ধান রোপন করেছেন কৃষকরা। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩ হাজার ৩শ ১৩ মেট্রিক টন চাল। তবে সময়মত এ ধান রোপন সম্ভব না হলে লক্ষ্যমাত্রায় পৌছানো কোনভাবেই সম্ভব হবে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, বাঁধের কারণে পানি সংকটের জন্য কৃষকদের চাষাবাদ সমস্যার কথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। পানির কারণে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও ব্লকের তালিকাও তাকে দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস জানান, বাঁধের কারণে বড় ৩০ থেকে ৩৫টি ব্লক ক্ষতিগ্রস্থের তালিকার পাশাপশি আরও অনেক ছোট ব্লক ক্ষতি হবে। এ কারনে বরিশাল সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় এমপি’র সহযোগিতায় সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য বরিশাল সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, উন্নয়ন কাজ সবার দরকার। আগৈলঝাড়া ইউএনও’র সাথে কথা বলে, কতটুকু সময়ের মধ্যে কাজ করা দরকার এবং আবহাওয়ার দিকে নজর রেখে কাজ শুরু করা উচিত বলে একটি সভায় থাকার কথা জানিয়ে ফোন কেটে দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *