বুধবার, মে ২৩, ২০১৮, ১১:০৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Home » সম্পাদকীয় » আকাশে বিমান, মাটিতে চাকা

আকাশে বিমান, মাটিতে চাকা

সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়নের পরপরই উড়োজাহাজের চাকা খুলে যাওয়ার ঘটনা রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভাবমূর্তি ও আস্থার ওপর আরও একটি আঘাত বলে মনে করি আমরা। সৌভাগ্য যে, পাইলটের দক্ষতার কারণে উড়োজাহাজটির ৭১ আরোহীর কারও কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে চাকা খুলে যাওয়ার এ ঘটনার পর দেশ-বিদেশের যাত্রীরা যদি এ এয়ারলাইন্স থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন, তাহলে তাদের দোষ দেয়া যাবে কি? এতে শুধু বিমানের নয়, দেশেরও ক্ষতি। চলতি মাসেই পরপর দুটি দুর্ঘটনায় বিমানের দুটি উড়োজাহাজের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে, যার পরিমাণ ১০০ কোটি টাকারও বেশি। এছাড়া গত বছর ডিসেম্বরে মাসকট থেকে উড্ডয়নের পর বিমানের উড়োজাহাজের একটি চাকা ফেটে গেলে চরম ঝুঁকি নিয়ে সেটাকে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করতে হয়। অক্টোবরে গ্রাউন্ড সাপোর্ট শাখার বেল্টারের আঘাতে বিমানের একটি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজের ইঞ্জিন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। এর বাইরে সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণেও বিমানের উড়োজাহাজে প্রায়ই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটছে। গত জুনে ব্যাংককগামী বিমানের একটি ফ্লাইট চাকার সেফটি পিন না খুলেই উড্ডয়ন করায় আকাশে উড়োজাহাজের চাকা গুটাতে না পেরে পাইলটকে ৫০ মিনিট তেল পুড়িয়ে জরুরি অবতরণ করতে হয়। এর আগে ব্যাংককে বিমানবন্দরে ককপিটের দরজা লাগিয়ে যাত্রীবোঝাই একটি ফ্লাইট ফেলে ব্যক্তিগত শপিংয়ে গিয়েছিলেন বিমানের দুই পাইলট।
বস্তুত এসব ঘটনা এ সংস্থার চরম অব্যবস্থাপনাই নির্দেশ করে, যার দায় এর পরিচালনা পর্ষদ ও ম্যানেজমেন্টের ওপরই বর্তায়। মূলত ঘন ঘন দুর্ঘটনা ও ম্যানেজমেন্টের ব্যর্থতার কারণে যাত্রীশূন্য হয়ে পড়েছে বিমান। এ কারণে ইতিপূর্বে খোদ প্রধানমন্ত্রীও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছিলেন, বিমান খালি যায়, মানুষ টিকিট পায় না কেন? আমরা মনে করি, এসব ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্টদের যথাযথ জবাবদিহি হওয়া প্রয়োজন। দুর্ঘটনা ও অব্যবস্থা রোধে ব্যর্থতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি হওয়া উচিত। বিমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি-অব্যবস্থার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ঘন ঘন দুর্ঘটনার কারণে ভাবমূর্তি হারানো একটি প্রতিষ্ঠানের দায়ভার আর কতদিন বইবে সরকার? আজ সময় এসেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা খোলনলচে পাল্টে একে প্রকৃত লাভজনক সংস্থায় পরিণত করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেয়ার। সরকার এদিকে জরুরি দৃষ্টি দেবে, এটাই কাম্য।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *