বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৮, ২:২৯:৫৫ অপরাহ্ণ
Home » অন্যান্য » অস্বচ্ছল সাংবাদিকদের অনুদান ও প্রাসঙ্গিত কিছু কথা-

অস্বচ্ছল সাংবাদিকদের অনুদান ও প্রাসঙ্গিত কিছু কথা-

আব্দুল বারী :
চোর করলে চুরি, চেয়ারম্যান করলে দুর্নীতি, এমপি করলে অনিয়ম। একই শব্দের নানাবিধ প্রয়োগ।
গরীব নিলে ভিক্ষা, মধ্যবিত্ত নিলে অনুদান, ধনীরা নিলে সহায়তা।
যে নামেই বলা হোকনা কেন, অন্যায়ভাবে অনুদান নেওয়া ভিক্ষার চেয়েও খারাপ। এটাই সত্য।
“নবির শিক্ষা করোনা ভিক্ষা মেহনত করো সবে” ছোটকালে পড়া এই হিতোপদেশ বড় হওয়ার পর অনেকেই যে ভুলে যায়, তা তাদের কর্ম দেখেই বুঝা যায়।
এবারে বেশ কিছু সাংবাদিক এই হিতোপদেশ ভুলে অন্যার্যভাবে দুস্থ ও অসচ্ছল সেজে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে অনুদান নিয়েছেন।
কেউ কেউ এটাকে ভাল কাজের পুরুষ্কার হিসেবে উল্লেখ করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। কেবলমাত্র সাংবাদিক নয় মেধা ভিত্তিক পেশার লোকদের কাজে খুশি হয়ে রাষ্ট্র, সরকার, ধনিক শ্রেণী বা যে কেউ তাদের পুরুষ্কার দিতেই পারে। কারটা নিবে বা না নিবে, সেটা নির্ভর করে তার পছন্দ অপছন্দের উপর। কোন প্রতিদান না দিয়ে অনুদানের জন্য লাইনে দাঁড়ালে এটা হবে ভিক্ষার শামিল।
“বল বীর চির উন্নত মম শির” হাত পেতে কারো কাছ থেকে অনুদান বা ভিক্ষা নিলে শির কি উন্নত থাকে?
সাংবাদিকরা লাইনে দাঁড়িয়ে অনুদান নিয়েছেন। এর মধ্যে কিছু সচ্ছলও আছেন। এ নিয়ে সারা দেশে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এটা উচিত কি অনুচিত তা নিয়ে মতের অন্ত নেই।
আমি বলি প্রয়োজন বাধ্য করলে এমন অনুদান আমাকেও নিতে হতে পারে। অতিতে অনেক বড়লোকেরাও রাষ্ট্র সরকার ব্যাক্তিদের কাছ থেকে অনুদান নিয়েছেন। তা নিয়ে কোন কথা উঠেনি। কারন সবাই জানতো ওই ব্যাক্তির জীবন বাঁচানোর জন্য এর চেয়েও বেশি অনুদান প্রয়োজন।
এবারে ১২৬ জন অনুদান নিয়েছেন। এর মধ্যে অনেকেই এই পেশার নয়। যারা পেশায় আছেন তাদের মধ্যে কারা অনুদান পাওয়ার যোগ্য বা অযোগ্য তা প্রায় সবাই জানে। সেই হিসেবে সচ্ছল লোকেরা এমন দান নিয়ে এই পেশার মান নষ্ট করেছেন বলেই হয়তো চলছে এমন আলোচনা বা সমালোচনা।
সে যাই হোক, আগামীতে এই তালিকা প্রনয়নে আরো সতর্ক না হলে আরো বদনাম হতে পারে।
পেশার সুনাম রক্ষা ও প্রকৃত দুস্থদের হক রক্ষার স্বার্থে অন্যায়ভাবে অনুদানের তালিকায় নাম লেখানোদের রাজ ভিক্ষুক বলে ধিক্কার জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *