মঙ্গলবার, জুন ১৯, ২০১৮, ১:১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
Home » শিক্ষা » অর্থাভাবে নিষ্ক্রিয় পরিবহন, নিষ্ক্রিয় প্রশাসন

অর্থাভাবে নিষ্ক্রিয় পরিবহন, নিষ্ক্রিয় প্রশাসন

জবি প্রতিনিধি:

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পরিবহন সঙ্কট দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রায় ২৩ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বাস রয়েছে মাত্র ১৬টি। পরিবহনের সংখ্যা বাড়লেও সেগুলো দেয়া হয়নি শিক্ষার্থীদের। নতুন বাস আসলে তা শিক্ষার্থীদের দেয়ার কথা থাকলেও তা চলে যায় শিক্ষকদের কাছেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় তীব্র পরিবহন সঙ্কটের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অন্যদিকে বাইরের বাসে চড়তে গিয়ে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীরা নানা হয়রানির শিকার হচ্ছে। এছাড়াও কথিত বাস কমিটির সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত আসন শিক্ষার্থীদের জন্য অনেকটা বোঝার ওপর শাকের আঁটির মতো।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিকল হয়ে পড়ে থাকা পরিবহনগুলো সংস্কারে তেমন তৎপরতা নেই প্রশাসনের। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পরিবহন সঙ্কট বেড়েই চলেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব পরিবহন বিকল পড়ে আছে সেগুলো মেরামতের জন্যও তেমন তৎপরতা নেই প্রশাসনের। চলতি জবি থেকে ছেড়ে যাওয়া ‘নোঙ্গর’ বাসটি নরসিংদী যাওয়া আগে এক পথচারীকে ধাক্কা দিলে সে তাৎক্ষণিক মৃত্যুবরণ করে। পরে বাসটি বেশকিছু দিন সংস্কারের অভাবে পড়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি পরিবহন এখনো সংস্কারের অপেক্ষায় ক্যাম্পাসে পড়ে আছে। সংশ্লিষ্টরা অবিলম্বে পরিবহন বৃদ্ধি ও সংস্কারের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১২টি দোতলা বাস এবং ৪টি একতলা বাস ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের ১৪টি রুটে চলাচল করছে। তার মধ্যে ৪টি একতলা বাস নিজস্ব এবং বাকি ১২টি বাস ভাড়ায় চালিত। প্রতিটি দ্বিতল বাসের ধারণক্ষমতা ১০০ জন। ১৬টি বাসের ধারণক্ষমতা ৩ হাজার। আর বাকি শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো পরিবহন ব্যবস্থা নেই।

রেজিস্টার অফিসের তথ্যানুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ২৩ হাজার। এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য পরিবহন ব্যবস্থায় আছে ভাড়ায় চালিত ১২টি বিআরটিসি বাস। পর্যাপ্ত বাস না থাকায় এবং ট্রিপের সংখ্যা মাত্র ১ বার হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির মাত্রা অনেক বেশি। বাসের ধারণক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী যাতায়াত করায় প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের প্রাণ দিতে হয়। এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে যাতায়াত করার সময় দু’জন শিক্ষার্থীকে অকালে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে।

প্রতিদিন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়ত করতে হয়। বাসগুলোর একবার ট্রিপ থাকায় সব শিক্ষার্থীর একটি নির্দিষ্ট সময়ে ক্যাম্পাসে আসতে হয়। আবার নির্দিষ্ট সময়ে ক্যাম্পাস থেকে বাসায় ফিরতে হয়। যার ফলে সব শিক্ষার্থী এক সময় চাপের মুখে পড়তে হয়। তাই বাসের ঝুঁকিটা একটু বেশি থাকে।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। প্রতি সেমিস্টারে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নেয়া হয়। যার মোট অংক অর্ধকোটি টাকার উপরে গিয়ে দাঁড়ায়। তারপরও পরিবহন সঙ্কট দূর হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা আন্দোলন-সংগ্রাম করলে তাদের আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রাখে প্রশাসন। এর আগেও সাভারের ‘বংশী’ বাসে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনকে নতুন বাস ক্রয়, ডাবল ট্রিপ চালু ও ছাত্র মৃত্যুর মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে তার দাবি জানান। কিন্তু শিক্ষার্থীদের এসব দাবির প্রতি প্রশাসনের কোনো সাড়া মিলছে না বলে দাবি করেছেন যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়ার পথেও লোকাল যাত্রী নিয়ে ভাড়া তোলে বলে অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে। শিক্ষার্থীদের নামিয়ে দেয় পরবর্তীতে অতিরিক্ত লোকাল ট্রিপ থেকে টাকা আদায় করে। এতে করে পরিবহনের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। অনেক সময় বাস আসে না সঠিক সময় আবার মাঝপথে থেমেও যায়। চালকরা তাদের ইচ্ছে মত রুট পরিবর্তনও করে। গন্তব্যের আগেই নামিয়ে দেয়া হয় শিক্ষার্থীদের। কিন্তু এই ব্যাপারে প্রশাসনের কোন নজরদারী নেই।

এসব বিষয়ে জানতে পরিবহন প্রশাসক প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাসুদের সাথে কথা বললে তিনি পূর্বপশ্চিমবিডিকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস সংখ্যা শিক্ষার্থীদের তুলনায় অপ্রতুল। তবে এই সংকট নিরসনের জন্য নতুন ৪টি বাস সংযোগ করার কথা রয়েছে। কিন্তু তার থেকে ৩টি বাস শিক্ষার্থীদের জন্য দেয়া হবে এবং ১টি শিক্ষকদের। যদি প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকটি বাস অতিরিক্ত থাকত তাহলে একটি নষ্ট হলে আরেকটি চালু করা যেত। সেখানে প্রয়োজন মতো কোনো বাসও নেই। যেহেতু বাসের সংখ্যা অনেক কম তাই ডাবল ট্রিপ চালু করার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই।

তিনি আরো বলেন, অর্থ সঙ্কটে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ করা যাচ্ছে না। চেক পাশ হয়ে না আসলে আমার কিছুই করার থাকে না। চালকরা অতিরিক্ত সময়ে গাড়ী চালানোর ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেনা বলে জানান। এই ব্যপারে কোন পদক্ষেপ নেয়ার কথাও তিনি বলেননি।

ইতিপূর্বে এবছর জানুয়ারীতে শিক্ষার্থীদের জন্য ৫টি বাস দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *