সোমবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৮, ১২:৪১:১১ পূর্বাহ্ণ
Home » অন্যান্য » অন্ধত্বকে জয়করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে খোকসার রিংকু

অন্ধত্বকে জয়করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে খোকসার রিংকু

রিয়াজুল ইসলাম সেতু :
মোঃ রিংকু হোসেন, বয়স ২৪বছর, পিতা আমির হোসেন, বাড়ী খোকসা কালীবাড়ী। বাবা মায়ের ৩ সন্তানের বড় সন্তান। নামটি শুনলেই এক বাক্যে খোকসাবাসীর সবাই চেনে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রিংকু। অন্ধত্বকে জয় করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিজ্ঞাপনের কণ্ঠ মিলিয়ে নিজের জীবন জীবিকা নির্বাহ করে।

২০০৭ সালে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলেন রিংকু। পিতা আমির হোসেন স্থানীয় ডা: রেজাউল করিম এর স্বরণাপন্ন হন রিংকুর চিকিৎসার জন্য। তার চিকিৎসায় রিংকু সুস্থ্য না হলে, স্থানীয় বৃত্তবানদের কাছ থেকে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে ঢাকা ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এতে রিংকুর বাম চোখের ৩৩% দৃষ্টি ফিরে পেলেও ডান চোখটি সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যায়। অর্থ সংকুলান না করতে পেরে কারিকর সম্প্রদায়ের দিনমজুর পিতা আমির হোসেন ছেলেকে আর চিকিৎসা করাতে পারে না। এরই মধ্যে রিংকুর লেখা পড়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

বিভিন্ন মাধ্যমে গান এবং কণ্ঠ শুনে কন্ঠ মিলাতে থাকে রিংকু গুনগুনিয়ে। একপর্যায়ে অনেকের কন্ঠেই নিজের কন্ঠ মিলাতে সক্ষম হয়। সময়ের দাবীতে “প্রচারই প্রসার ব্যবসার আঙ্গিনায়” এমনই স্লোগানকে সামনে রেখে রিংকু মনোনিবেশ হয় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানের প্রচারে কণ্ঠ দেয়। স্থানীয় ৩-৪ জন বিজ্ঞাপন রেকর্ডার এর দোকানে কণ্ঠ দিয়ে উপার্জন করে। এতে যা উপার্জন হয় তা দিয়েই চলে রিংকুর বাবা মায়ের সংসার।

বাবার পৈত্রিক ব্যবসাটি এখনই ধরে রেখেছেন রিংকুর বাবা কোন মত। সামান্য পুজিতে যতটুকু ব্যবসা হয় তা দিয়ে রিংকুদের পরিবার চলে বড় কষ্টে। তার উপর রিংকুর চোখের চিকিৎসা করানো তাদের জন্য অনেক ব্যয়বহুল। বৃত্তবানরা একটু হাতবাড়িয়ে দিলে হয়তবা পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি ফিরেপেতে টগবগে যৌবনা রিংকু হোসেন।

নিজের কোন স্থায়ী ঠিকানা না থাকলেও বিজ্ঞাপন প্রচারে কণ্ঠ মিলাতে রিংকুর সাথে যোগাযোগের একটিই মাধ্যম তার হাতে থাকা মুঠোফোন। যে প্রান্তেই থাকুক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান বা দোকনা থেকে ফোন দিলে রিংকুর রেকর্ডিং সেন্টার সেই মাইকের দোকানে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রিংকু সামাজিক শত প্রতিকুলতা উপেক্ষা করেও ব্যক্তি উদ্যোগে স্বচেষ্টায় কণ্ঠ ব্যবসায় যোগ দিয়ে নিজেকে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অন্ধত্ব বরণ করেও ভিক্ষার ঝুলিকে ধীক্কার দিয়ে নিজের কর্মে মনোনিবেশ করে নিজের তথা পরিবারের আয়ের উৎস হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রিংকু। সমাজের অনেকেরই অনুকরনীয় হতে পারে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রিংকু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *